বাংলাদেশ
জ্বালানি সঙ্কটে বাংলাদেশের পাশে ভারত! আজই পাঠানো হচ্ছে ৫ হাজার টন ডিজেল
ডিজিটাল ডেস্কঃ ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট (Energy Crisis) চরমে পৌঁছেছে। এর বড় প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও। জ্বালানির অভাবে সে দেশে বর্তমানে পরিবহন থেকে বিদ্যুৎ পরিষেবা- সবই বিপর্যস্ত। এই কঠিন সময়ে প্রথাগত বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আজ, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি (Numaligarh Refinery) থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC) সূত্রে খবর, জ্বালানি তেলের মজুদ (Stock) স্বাভাবিক রাখতে এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জরুরি আবেদনের ভিত্তিতেই ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ভারতীয় হাইকমিশনার (High Commissioner) প্রণয় বর্মার সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। সেখানে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব (Official Proposal) দেয় ঢাকা। যদিও ২০২৬ সাল পর্যন্ত ডিজেল আমদানির চুক্তি ছিল, কিন্তু ইউনুস জমানায় সম্পর্কের টানাপড়েনে (Diplomatic Tension) সরবরাহ কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছিল।
বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাইকে ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটারের বেশি তেল মিলছে না। গ্যাসের কালোবাজারি (Black Marketing) এবং পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) কার্যত বন্ধ থাকায় ভারত নিজেও চ্যালেঞ্জের মুখে, তবে বন্ধুত্বের খাতিরে নয়াদিল্লি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে সাহায্য করছে। এই ডিজেল সরবরাহ পাইপলাইনের মাধ্যমে হওয়ায় পরিবহন খরচ (Transport Cost) ও সময়- উভয়ই সাশ্রয় হবে।
ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা (Energy Security) নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
