আত্মহত্যা
যৌন হেনস্থার বিচার না পেয়ে আগুনে ঝলসে মৃত্যু, ওড়িশা বনধের ডাক ৮ দলের, মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধীরা
ডিজিটাল ডেস্কঃ ওড়িশার বালাসোরে কলেজ ছাত্রীর আত্মাহুতির ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে মৃত্যুবরণ করা ওই ছাত্রীর ঘটনায় রাজ্যে শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝির (Mohan Majhi) সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
ফকির মোহন অটোনোমাস কলেজের (Fakir Mohan Autonomous College) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, যিনি কলেজ ক্যাম্পাসেই নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন, তাঁর শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। প্রথমে তাঁকে বালাসোর জেলা হাসপাতালে এবং পরে ভুবনেশ্বর AIIMS-এ স্থানান্তরিত করা হলেও সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই AIIMS হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে কংগ্রেস ছাত্র সংগঠন NSUI।
আরও পড়ুনঃ কানকী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ কাজের সূচনা করলেন সাংসদ কার্তিক পাল
ছাত্রীর অভিযোগ, কলেজের এক বিভাগীয় প্রধান তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হেনস্থা করে আসছিলেন। সেই অভিযোগ গত ১ জুলাই কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ গ্রহণ কমিটি (ICC)-র কাছে লিখিত আকারে জানান ওই ছাত্রী। অভিযোগের সঙ্গেই ছিল হেনস্থার বিস্তারিত বিবরণ। কিন্তু তারপরেও কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। শেষমেশ অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়েই কলেজ ক্যাম্পাসে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন নির্যাতিতা।
এই ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী সূর্যবংশী সূরজের (Surya Banshi Suraj) পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধীরা। শুধু তাই নয়, কংগ্রেস, CPM, BJD-সহ আটটি রাজনৈতিক দল একসঙ্গে মিলে আগামী ১৭ জুলাই ওড়িশা বনধের (Odisha Bandh) ডাক দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি দায় নিতে হবে এই নারকীয় ঘটনার জন্য।
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষও। কলেজ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং সরকারের নীরবতায় আরও একবার প্রশ্নের মুখে দেশের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কাঠামো।
