সূত্র অনুযায়ী, ২০২৭ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি (First Woman CJI) হিসেবে শপথ নিতে পারেন বিচারপতি বিভি নাগরত্ন (Justice B.V. Nagarathna)। তবে তিনি ওই পদে থাকবেন মাত্র ৩৬ দিনের জন্য।
স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) কোনও মহিলা প্রধান বিচারপতির আগমন ঘটেনি। এখনও পর্যন্ত ৫১ জন প্রধান বিচারপতির প্রত্যেকেই ছিলেন পুরুষ। সুপ্রিম কোর্টে এখন পর্যন্ত মাত্র ১১ জন মহিলা বিচারপতির অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে। এই পটভূমিতে নাগরত্নার সম্ভাব্য শপথ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, মেয়াদের দিক থেকে সেটা ন্যূনতম নয়।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ভারতের সবচেয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি কমলনারায়ণ সিং (Justice Kamal Narain Singh), যিনি মাত্র ১৭ দিন দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিচারপতি এস রাজেন্দ্র বাবু (Justice S. Rajendra Babu), যিনি প্রধান বিচারপতির পদে ছিলেন ২৯ দিন।
আরও পড়ুনঃ দেশের প্রথম বৌদ্ধ প্রধান বিচারপতি হিসাবে শপথ নিলেন বিচারপতি গভাই
অন্যদিকে, সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে প্রধান বিচারপতির পদ সামলেছেন যশবন্ত বিষ্ণু চন্দ্রচূড় (Justice Y.V. Chandrachud)। তিনি এই পদে ছিলেন টানা ৭ বছর ১৩৯ দিন।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট এবং হাই কোর্টগুলিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘সিনিয়রিটি’-ই প্রধান মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে বিচারপতিরা দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই অবসর গ্রহণের মুখে পড়েন, যার কারণে সংক্ষিপ্ত মেয়াদের নজির তৈরি হয় বারবার।
সম্প্রতি, বর্তমান প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় (Justice D.Y. Chandrachud) তাঁর মেয়াদে হিমাচল প্রদেশ হাই কোর্টে বিচারপতি রাজীব শকধেরকে (Justice Rajiv Shakdher) নিয়োগ করেন, যিনি ছিলেন মাত্র ২৪ দিনের জন্য প্রধান বিচারপতি।
এই পরিস্থিতিতে বিচার ব্যবস্থায় ‘সিনিয়রিটি নির্ভর নিয়োগনীতি’ নিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি আরও জোরদার হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিজ্ঞতা নয়, বিচারিক দক্ষতা ও স্থায়িত্ব বিবেচনা করে ভবিষ্যতে বিচারপতি নিয়োগের রীতি নির্ধারণ করা উচিত।