দেশ
পেগাসাস নিয়ে বিতর্কে ইতি? সুপ্রিম কোর্ট বলল, নিরাপত্তা আগে
ডিজিটাল ডেস্কঃ জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নজরদারিমূলক প্রযুক্তি ব্যবহারে কোনও বাধা থাকা উচিত নয়—এমনই স্পষ্ট বার্তা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। পেগাসাস স্পাইওয়্যার সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা অক্ষুন্ন রাখতে প্রযুক্তিগত নজরদারি একেবারে অপ্রয়োজনীয় নয়। পাশাপাশি আদালত জানিয়ে দিয়েছে, পেগাসাস তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না, কারণ তা ‘সংবেদনশীল’ জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে বলেছে, ‘‘আমরা যে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা অত্যন্ত সতর্কতার দাবি রাখে। যদি কোনও রাষ্ট্রীয় সংস্থা সীমিত পরিসরে নজরদারি চালায়, তবে সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা যায় না—যতক্ষণ না তা অপব্যবহৃত হচ্ছে।’’ আদালতের মতে, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি যদি সন্দেহ করেন যে তিনি নজরদারির আওতায় রয়েছেন, তবে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা জানার অধিকার থাকবে তাঁর। তবে সার্বিক তদন্ত রিপোর্ট গোপন রাখার সিদ্ধান্তই এখন আদালতের মতে যুক্তিযুক্ত।
আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে পর্যটনে জঙ্গি ছায়া, বন্ধ ৪৮ কেন্দ্র, মোতায়েন বিশেষ বাহিনী
পেগাসাস বিতর্ক ২০২১ সালে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক গোষ্ঠীর তরফে প্রকাশিত এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ইজরায়েলি প্রযুক্তি সংস্থা NSO Group-এর তৈরি এই স্পাইওয়্যার ভারতের কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং কর্মী-অধিকার আন্দোলনকারীর ফোনে প্রয়োগ করা হয়েছে। তালিকায় ছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রশান্ত কিশোর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
তবে সরকারের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। কেন্দ্রীয় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এদিন বলেন, “জঙ্গিদের গতিবিধি নজরে রাখার জন্য প্রযুক্তি প্রয়োগ হলে তা নিয়ে আপত্তির কী আছে? সন্ত্রাসবাদীরা কি গোপনীয়তার দাবি করতে পারে?” আদালতও তাতে সহমত জানিয়ে মন্তব্য করে, ‘‘সন্ত্রাস মোকাবিলায় প্রযুক্তি ব্যবহারে কোনও আপত্তি নেই, যতক্ষণ না তা গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করে।’’
বিশ্লেষকদের মতে, এই পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ স্বস্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, বিশেষত যখন দেশজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পহেলগাম হামলার প্রেক্ষিতে।
