ভাইরাল খবর
উত্তর প্রদেশে আইন হাতে জনতা, ধর্ষণের অভিযুক্তকে নগ্ন করে ঘোরানো গোটা গ্রামে
ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশের বহরাইচ জেলায় গণপিটুনির ভয়াবহ চিত্র উঠে এল। ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রামবাসীরা গরুর গাড়িতে বেঁধে নগ্ন অবস্থায় গোটা গ্রামে ঘোরায় বলে অভিযোগ। তাঁকে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরানোর সেই দৃশ্যের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শুক্রবার পুলিশের হাতে ভিডিও পৌঁছনোর পর শুরু হয়েছে তদন্ত।
স্থানীয় সূত্রের খবর, অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেই ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামবাসীরা তাঁকে খুঁজছিলেন। বৃহস্পতিবার আচমকা এক চাষের জমির পাশে তাঁকে দেখতে পান কয়েকজন। সেখান থেকেই শুরু হয় ঘটনার রূপান্তর।
আরও পড়ুনঃ মূক ও বধির কিশোরীকে ধর্ষণ, চিকিৎসকরা জানালেন শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্তকে ধরে ফেলার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। এরপর তাঁর পোশাক ছিঁড়ে তাঁকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় গরুর গাড়ির সঙ্গে বেঁধে গোটা গ্রাম ঘোরানো হয়। সেই গাড়ির সামনে-পিছনে জমায়েত হয় শতাধিক মানুষ, যাঁরা কেউ চিৎকার করে গালিগালাজ করছেন, কেউ মাঝেমধ্যে আবার অভিযুক্তকে ঘুষি-থাপ্পড় মারছেন।
এই দৃশ্য কেউ একজন মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিও। ভিডিও ভাইরাল হতেই বিষয়টি নজরে আসে জেলা প্রশাসনের।
এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষিতে এক মহিলাও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, গ্রামবাসীরা যাঁর উপর হামলা চালিয়েছে, তিনি তাঁর দেওর। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ এনেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে গণপিটুনির ফাঁদে ফেলা হয়েছে। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রামবাসীদের একাংশের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ভাইরাল ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা কারা এই গণপিটুনিতে জড়িত, তাঁদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। জেলা পুলিশ সুপার এক বিবৃতিতে বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগ হোক বা অন্য কোনও অপরাধ, আইন নিজের হাতে তোলার অধিকার কারও নেই। যাঁরা এই ধরনের ন্যক্কারজনক কাণ্ডে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশে আইন হাতে তুলে নেওয়ার এমন ঘটনা আগেও বহুবার ঘটেছে। তবে একজন অভিযুক্তকে এইভাবে গরুর গাড়িতে বেঁধে ঘোরানোর নজির খুব কমই দেখা গেছে। এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল— আইন ও সুবিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কতটা আছে?
