জেলার খবর
পিরিয়ড নিয়ে ছুতমার্গ রুখতে স্যানিটারি প্যাড নির্মাণের উদ্যোগ প্রশাসনের
একবিংশ শতাব্দীতেও মেয়েদের ঋতুকালীন সমস্যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলা তো দূর অস্ত্, কুসংস্কার আর রাখ-ঢাকে এখনো নিয়ন্ত্রিত হয় মাসের ওই ক’টা দিনে’ মেয়েদের চলাফেরা, আচার, আচরণ। শহরাঞ্চলে এনিয়ে সচেতনতার পরিসর কিছুটা পরিলক্ষিত হলেও গ্রামাঞ্চলে এবিষয়ে এখনো বর্তমান নানা সংস্কার। বহু গ্রামেই মহিলারা ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতন নন।এনিয়ে রয়েছে নানা জড়তা। সেকারণে ঋতুকালীন সময়ে অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতির ব্যবহারে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মহিলারা। ফলে ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা ও মহিলাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভীষণ জরুরি স্যানিটারি প্যাড। ফলে গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মেয়েদের হাতে স্যানিটারি ন্যাপকিন পৌঁছে দিতে উত্তর দিনাজপুর জেলার মধ্যে প্রথম গোয়ালপোখর ২ ব্লকের চাকুলিয়ায় গঠিত হয়েছে স্যানিটারি প্যাড নির্মানে কারখানা।
উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুলিক সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের স্যানিটারি প্যাড তৈরি করছেন ব্লকের বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যারা। এখানে উৎপাদিত স্যানেটারি প্যাড বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, স্কুলের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামীন এলাকায় স্বল্পমূল্যে বিক্রি করছেন গোষ্ঠীর সদস্যারা। ফলে প্রশাসনের এই উদ্যোগে গ্রামীণ এলাকার বহু মহিলাই নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হয়ে সংসারের হাল ধরছে। অন্যদিকে সদস্যারা ঋতুস্রাব নিয়ে সচেতনতাবৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছে।
আরও পড়ুন – ‘হোয়্যার ইজ মাই ট্রেন’-অ্যাপের ধাঁচে রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘হোয়্যার ইজ মাই বাস’ অ্যাপ
এবিষয়ে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী পরিষেবা সমবায় সমিতি নেত্রী রেণু শর্মা জানিয়েছেন, ব্লকের প্রায় ৪৬জন মহিলা মিলে সংঘ তৈরি করে ব্যাঙ্ক ঋণের মাধ্যমে এই প্যাড তৈরির মেশিন কেনা হয়। গ্রামীন এলাকার মহিলাদের প্যাড তৈরির প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখানে উৎপাদিত প্যাড ব্লকের অধীনস্থ ১১টি পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এই কাজের জন্যে জেলাশাসক , বিডিও ও ব্লক প্রশাসনের তরফেও প্রভূত সহায়তা করা হচ্ছে। এখানে কাজ করে মহিলারা যেমন আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। তেমনই ৩০টাকা মূল্যে ছটি প্যাডের প্যাকেট সহজেই কিনতে পারছেন গ্রামীন এলাকার মহিলারা। যা তাদের স্বাস্থ্যরক্ষায় সহায়ক হচ্ছে।এখানে উৎপাদিত স্যানিটারি প্যাড ব্লকের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন – ইভটিজারদের হাত থেকে বাঁচতে মৃত্যু তরুণীর, জখম আরও ২
অন্যদিকে ঋতুকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় স্যানিটারি ন্যাপকিনের দাম ও সামাজিক নানা ছুতমার্গের কারণে গ্রামীণ এলাকার বহু মহিলাই এখনো স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞাত। পিরিয়ডে এখনো তারা পুরনো পন্থা অনুসরণেই বিশ্বাসী। ফলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের লাগাতার প্রচার ও স্বল্পমূল্যের কারণে গ্রামীণ এলাকাতেও ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়ছে এই স্যানিটারি প্যাডের। চন্দনা নামে এক গৃহবধূ বলেন, আমরা নিয়মিত এই প্যাড ব্যবহার করে থাকি। এর গুণগতমান ভালো। দামও বাজারচলতি প্যাডের তুলনায় অনেকটাই কম।
আরও পড়ুন – ভবিষ্যদ্বাণী বিফলে! দুবাইয়ে পাকিস্তান বধ ভারতের
প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত বিষয়গুলি ভীষণভাবে অবহেলিত। ফলে মহিলাদের মাধ্যমেই মহিলাদের মধ্যে ঋতুকালীন বিষয় নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে গোয়ালপোখর ২ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সুজয় ধর বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের সচেতন করতে জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে ব্লক জুড়েই অভাবনীয় সাড়া মিলেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের মধ্যে এই প্যাড বিক্রি করার পাশাপাশি তাদের ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতন করা হচ্ছে।দাম কম থাকার কারণে এই প্যাডের চাহিদাও ক্রমবর্ধমান। একারণে আগামীতে উৎপাদন বৃদ্ধিরও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সুজয় ধর ।
