উত্তরবঙ্গ
দুর্ঘটনায় মৃত স্ত্রী-পুত্র, দেহ মর্গে রেখে SIR শুনানিতে শিক্ষক
ডিজিটাল ডেস্কঃ SIR (Special Investigation Report)-এর শুনানি ঘিরে প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ উঠছে একের পর এক জেলায়। তারই মধ্যে শুক্রবার মালদা (Malda) থেকে সামনে এল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। শুনানি কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় (road accident) মৃত্যু হল এক শিক্ষকের স্ত্রী ও নাবালক পুত্রের। ময়নাতদন্তের (post-mortem) জন্য তাঁদের দেহ মর্গে রেখেই শুনানিতে হাজিরা দিতে বাধ্য হলেন শিক্ষক।
মালদার গাজোল (Gazole) থানার খড়দহিল এলাকার বাসিন্দা এমডি ইয়াসিন আনসারি। তিনি কালিয়াচকের (Kaliachak) সুজাপুর নয়মৌজা হাই মাদ্রাসার শিক্ষক। নামের বানান সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে তাঁকে শুক্রবার SIR শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সেই কারণে বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী হালিমা খাতুন এবং নয় মাসের পুত্র আরিফ হাসানকে নিয়ে টোটো (toto) করে আমবাজারের দিকে রওনা দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুস্তানি (Sustani) এলাকায় টোটোটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হালিমা খাতুনের। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুপুত্রকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Malda Medical College Hospital) নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।
দু’টি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়। কিন্তু শুক্রবার সকালে শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার বাধ্যবাধকতায়, স্ত্রী ও পুত্রের দেহ রেখেই শুনানি কেন্দ্রে ছুটতে হয় ইয়াসিনকে। মৃতের দাদা আব্দুর রহমান আনসারি জানান, পরিবার দেহ হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। শোকের মধ্যেই এই প্রশাসনিক চাপ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।


