ডিজিটাল ডেস্কঃ খড়্গপুরে রেলের বাংলো জবরদখলের অভিযোগ ঘিরে ফের চাঞ্চল্য। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে দীর্ঘদিন ধরে রেলের ৬৭৭ নম্বর বাংলো দখল করে রেখেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা এবং প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। পাল্টা তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে বুলডোজার চালানোর হুঁশিয়ারি দিলেন দিলীপ ঘোষ নিজেই।
রেলের তথ্যের অধিকার আইন (RTI)-এ পাওয়া এক জবাবের ভিত্তিতে অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি ও খড়্গপুরের প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবাশীষ চৌধুরী। তাঁর দাবি, রেল জানিয়েছে যে ৬৭৭ নম্বর বাংলোটি বরাদ্দ ছিল প্রাক্তন প্যাসেঞ্জার সার্ভিস কমিটির সদস্য তুষারকান্তি ঘোষের নামে, যার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় ২০২০ সালের মার্চ মাসেই। বর্তমানে ওই বাংলো কারও নামে বরাদ্দ নেই। দেবাশীষবাবুর অভিযোগ, “রেলের কোনও অফিসার বা কর্মচারী ছাড়া ওই বাংলোতে থাকার অনুমতি নেই। তা সত্ত্বেও দিলীপ ঘোষ সেখানে থাকছেন। বাংলো থেকে তাঁকে অবিলম্বে উচ্ছেদ করা উচিত। নিরাপত্তার দিক থেকেও বিষয়টি গুরুতর। বাংলোতে বহু অসামাজিক লোকজন যাতায়াত করছে, যার প্রভাব পড়তে পারে আরপিএফ এবং ডিআরএম অফিসের নিরাপত্তায়।”
আরও পড়ুনঃ এসএসসি চাকরিহারাদের ‘শেষ ভরসা’ মুখ্যমন্ত্রী, আজ নজরে নেতাজি ইন্ডোর
তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি বিধায়ক হওয়ার পর ২০১৭ সাল থেকে ওই বাংলোতে আছি। দু’দফায় এটি আমাকে বরাদ্দ করা হয়েছিল। এখন প্যাসেঞ্জার কমিটি নেই বলে আপাতত কোনও বরাদ্দ হয়নি, তবে খুব তাড়াতাড়ি হবে। আমি অবৈধ নই, বাংলোও অবৈধ নয়।”
এখানেই না থেমে, খড়্গপুর শহরে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, “দেবাশীষ চৌধুরী কিংবা প্রদীপ সরকাররা রেলের জমিতে অবৈধভাবে পার্টি অফিস বানিয়েছেন। খুব শিগগিরই সেই সব জায়গায় বুলডোজার চলবে।” রেলের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে এই ঘটনায় খড়্গপুরের রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের মতে, এই বিতর্ক সামনে আসায় শহরে রাজনৈতিক তরজাও আরও বেড়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।