ভাইরাল খবর
হোটেল কক্ষে নিঃসঙ্গ তিন দিন, দরজায় বার্তা রেখে আত্মহত্যা
ডিজিটাল ডেস্কঃ মুম্বইয়ের এক বিলাসবহুল হোটেল থেকে নিশান্ত ত্রিপাঠী নামে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে তিনি একটি চিঠি লিখে তাঁর স্ত্রী অপূর্বা পারেখ ও কাকিমা প্রার্থনা মিশ্রের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছেন। চিঠিটি তাঁর সংস্থার ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিশান্ত ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই হোটেলে ওঠেন এবং তিন দিন পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি, তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিন হোটেলের কক্ষের দরজার বাইরে তিনি একটি নোট লিখে রেখেছিলেন “আমাকে বিরক্ত করবেন না”। এ কারণে কেউ তাঁকে ডাকাডাকি করেনি। পরে সন্দেহ হওয়ায় হোটেলের কর্মীরা দরজা খুলে দেখেন, তিনি বাথরুমে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন।
এক হোটেল কর্মী প্রথম বিষয়টি দেখতে পান। অনেকক্ষণ ধরে কোনও সাড়া না পাওয়ায় তিনি দরজার তালা খুলে ভিতরে ঢুকতেই নিশান্তকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ম্যানেজারকে জানান। পরে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তদন্ত চলাকালীন নিশান্তের ল্যাপটপ থেকে একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, চিঠিটি নিশান্ত তাঁর সংস্থার ওয়েবসাইটে পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে তাঁর স্ত্রী ও কাকিমাকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, তিনি মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপে ছিলেন এবং এই পরিস্থিতির জন্য স্ত্রী ও কাকিমাকে দোষারোপ করেছেন।
আরও পড়ুনঃমুম্বই স্টেশনের শৌচাগারে রক্তাক্ত তরুণী! উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি
নিশান্তের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিশান্ত দাম্পত্য কলহের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই অপূর্বা পারেখ ও প্রার্থনা মিশ্রের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় মুম্বইজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা নিশান্তের কল রেকর্ড, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং চিঠির সত্যতা যাচাই করে পুরো ঘটনার বিশদ তদন্ত চালাচ্ছেন।
