আবহাওয়া
বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ায় কাঁপল শহর, উলটে গেল আবহাওয়ার খাতা
ডিজিটাল ডেস্কঃ কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের আকাশে গ্রীষ্মের মাঝেই যেন শীতল হাওয়ার স্পর্শ। সোমবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া প্রবল ঝড়বৃষ্টির কারণে রাতের দিকে তাপমাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটাই নেমে যায়। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এদিন ২০ ডিগ্রির নিচে নেমেছে, যা এই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যদিও বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি বেশ থাকায় অস্বস্তি পুরোপুরি কাটেনি।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবারও বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। কয়েকটি অঞ্চলে কালবৈশাখীর প্রকোপ দেখা দিতে পারে, সঙ্গে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া।
আবহাওয়ার এই রূপান্তরের পেছনে রয়েছে একাধিক আবহনৈতিক পরিবর্তন। দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থান এবং উত্তরপূর্ব অসমের উপর ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তরপূর্ব বাংলাদেশ সংলগ্ন অঞ্চলে এবং কোমোরিন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে আরও দুটি ঘূর্ণাবর্ত। এছাড়াও, রাজস্থান থেকে মহারাষ্ট্র হয়ে কেরল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে একটি অক্ষরেখা, যা মারাঠাওয়াড়া ও কর্ণাটকের উপর দিয়ে বিস্তৃত। এর সম্মিলিত প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আকাশে নেমে এসেছে এই বদল।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন রাজ্যে তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। উপকূলবর্তী এলাকা এবং সমুদ্র সংলগ্ন ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা থাকায় মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও আজ মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার – এই পাঁচ জেলায় বুধবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমলেও শুক্রবার থেকে ফের বাড়তে পারে। দার্জিলিং থেকে মালদহ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। কিছু অঞ্চলে ঝড়ের বেগ পৌঁছাতে পারে ৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টায়।
কলকাতায় সোমবার রাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৮ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫১ থেকে ৯৬ শতাংশের মধ্যে।
আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার ও শুক্রবার বিকেল বা রাতের দিকে বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায়।
