রাজ্যের খবর
সন্তান কোলে জঙ্গল রক্ষায় নতুন লড়াই! বাল্যবিবাহ রুখে দেশকাঁপানো সেই রেখা ফের খবরের শিরোনামে
বাল্যবিবাহ রুখে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া ‘পোস্টার গার্ল’ রেখা কালিন্দী এখন জঙ্গল রক্ষার লড়াইয়ে। ১৬ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে প্রতিদিন ঝালদার জঙ্গলে টহল দেন। মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়াচ্ছেন—জঙ্গল বাঁচানো মানেই জীবন বাঁচানো।
ছোটবেলায় বিড়ি (Bidi) বাঁধা থেকে শুরু হয়েছিল লড়াই। ছয় ভাইবোনের সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। ফলে লেখাপড়া তখন শুধু স্বপ্ন। ন’-দশ বছর বয়সেই দুই হাত পাকিয়ে ফেলেছিলেন বিড়ি গাঁথায় রেখো কালিন্দী। এক হাজার বিড়ি তৈরি করলে মেলে মাত্র চল্লিশ (40) টাকা। কিন্তু ভাগ্যের মোড় ঘোরে প্রশাসনের নজরে আসার পর। ১১ বছর বয়সে তাঁকে ভর্তি করা হয় ন্যাশনাল চাইল্ড লেবার প্রজেক্ট (NCLP) স্কুলে।
কিন্তু বাড়ির মত ছিল অন্য। পরিবারে বহু বছর ধরে চলে আসা রীতি—কৈশোরে পৌঁছনোর আগেই বিয়ের (Child Marriage) পিঁড়িতে বসতে হয় কিশোরীদের। কিন্তু রেখা মানেননি। বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের বাল্যবিবাহ রুখে দেন। সেখান থেকেই তাঁর শুরু এক ইতিহাসের। তিনি হয়ে ওঠেন দেশের রোল মডেল, ‘পোস্টার গার্ল’। তাঁর লড়াই জায়গা পায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে। এমনকি পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকেও।
সময়ের স্রোত বয়ে গেছে। এখন ২৮ বছরের রেখা মা। ১৬ মাসের কন্যাকে কোলে নিয়েই নতুন সংগ্রাম—জঙ্গল রক্ষা। ঝালদার কলমা বিটে বনদপ্তরের অস্থায়ী কর্মী হিসেবে আজ তিনি লাঠি হাতে বনের পাহারায়।
কলমা, কুদাগাড়া, ইছাহাতু থেকে ছোট বকদ—বিস্তীর্ণ জঙ্গলে প্রতিদিন তিনি হাঁটেন। বোঝান—“জঙ্গল নেই মানে জীবন নেই।”
স্থানীয় মানুষও এখন গাছ কাটেন না। গবাদিপশুর জন্য পাতা সংগ্রহ করেন, কিন্তু বনের ক্ষতি করেন না। তাই আজ কলমা বিটের জঙ্গল আবার ভরে উঠেছে জীববৈচিত্র্যে—হরিণ, চিতা, ভল্লুক, হাতি এমনকি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের (Royal Bengal Tiger) উপস্থিতিও টের পাওয়া যায়।
২০০৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল তাঁকে বলেছিলেন—“সমাজ পরিবর্তনের দূত।”
আজও সেই আদর্শে অটল রেখা।
জঙ্গল রক্ষা করেও প্রচার চালাচ্ছেন—একটি মেয়েকেও আর যেন বাল্যবিবাহে ঠেলে দেওয়া না হয়।
স্বামী মণীন্দ্র কালিন্দী বলেন—
“সংসার চালাতে আমি চাষ করি। তবে স্ত্রীর লড়াইয়ে আমি সবসময় পাশে।”
সহকর্মীরাও গর্বিত—
“রেখা শুধু কর্মী নন, অনুপ্রেরণা।”
রেখা বলেন—
“এই লড়াইই আমার জীবন। আমি চাই কেউ আমার দিদির মতো কষ্ট না পাক।”
