হামলা
ভারত-পাকিস্তান সঙ্কটে বিপাকে PSL, আমিরশাহীতে ম্যাচ আয়োজনে অনিচ্ছুক ECB
ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সাম্প্রতিক সঙ্ঘাতের জেরে পাকিস্তান সুপার লিগের (PSL) ভবিষ্যৎ নিয়ে দোলাচলে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে (UAE) আয়োজনের পরিকল্পনা করলেও, সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি আমিরশাহী ক্রিকেট বোর্ড (Emirates Cricket Board – ECB)-এর পক্ষ থেকে।
বোর্ড ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানাচ্ছে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দিন দিন যে উত্তেজনা বাড়ছে, তাতে করে আমিরশাহী প্রশাসন এই মুহূর্তে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না। “নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা এবং অভ্যন্তরীণ সামাজিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় রেখেই ECB সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে,” এমনটাই জানায় সেই সূত্র। পিসিবি আগেই ঘোষণা করেছিল যে, PSL-এর শেষ আটটি ম্যাচ—যেগুলি মূলত রাওয়ালপিন্ডি, মুলতান ও লাহোরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল—তা স্থানান্তর করে ইউএই-তে আয়োজন করা হবে। তবে ECB-এর সম্মতি না মিললে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বড়সড় বাধা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ভারতের প্রত্যাঘাতে দিশেহারা পাকিস্তান, পরমাণু হুমকি ঘুরে দাঁড়াল শান্তির কথায়
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, “পিসিবির (PCB) সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখলে আমিরশাহী বোর্ডকে (ECB) ভারতের বিরুদ্ধপক্ষ হিসেবে দেখা হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই তারা সতর্ক। কারণ, BCCI-এর (Board of Control for Cricket in India) সঙ্গে আমাদের সাম্প্রতিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়।”
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের ভারতীয় সংস্করণ, আইপিএলের একাধিক মরসুম এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভারতীয় ম্যাচগুলো সফলভাবে আয়োজন করেছে আমিরশাহী। তার ওপর, দুবাই-তেই রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর প্রধান কার্যালয়, যার বর্তমান সভাপতি জয় শাহ (Jay Shah) ভারতের প্রাক্তন বোর্ড সচিব।
এক ECB কর্তার কথায়, “আমিরশাহীতে বসবাসকারী বিপুল দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে যেকোনও ধরনের উত্তেজনা অনাকাঙ্ক্ষিত। এমন পরিস্থিতিতে PSL আয়োজন সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।”
এরই মধ্যে শনিবার সকালে পিসিবি ফের জানিয়ে দেয় যে, শেষ আটটি PSL ম্যাচ UAE-তেই হবে। যদিও দিনক্ষণ ও ভেন্যু এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এর ঠিক আগের দিন, বৃহস্পতিবার, রাওয়ালপিন্ডিতে পেশোয়ার জালমি ও করাচি কিংসের মধ্যে নির্ধারিত একটি ম্যাচ আচমকাই বাতিল করে দেওয়া হয়।
পটভূমিতে রয়েছে, ভারত সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী কড়া পদক্ষেপ। সম্প্রতি পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। তাতেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে।
