ভাইরাল খবর
বৈধ পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ যেতে বাধা, পেট্রাপোলে বিতর্ক SIR নিয়ে
ডিজিটাল ডেস্কঃ বৈধ পাসপোর্ট (Passport) এবং ভিসা (Visa) থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে যেতে বাধা দেওয়া হল বহরমপুরের এক মহিলাকে। বনগাঁর পেট্রাপোল (Petrapole) সীমান্তে আফরিনা হাসনাত (Afrina Hasnat) নামে ওই মহিলাকে ফেরত পাঠানো হয়। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকরা তাঁর ভিসা ও পাসপোর্ট যাচাইয়ের পরও বাবা-মায়ের ২০০০ সালের আগের ভোটার তালিকা (Voter List), জমির দলিলসহ একাধিক নথি দাবি করেন। সেসময় সেসব নথি সঙ্গে না থাকায় তাঁকে সীমান্ত পেরোতে দেওয়া হয়নি।
ঘটনার নেপথ্যে SIR (Suspicious Identity Record)-এর ‘চাপ’ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। আফরিনার বাবা, বহরমপুরের চিকিৎসক মীর হাসনাত (Mir Hasnat) এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা শাসকের কাছে ই-মেল মারফত অভিযোগ জানান।
জানা গিয়েছে, আফরিনা হাসনাত আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশ যাচ্ছিলেন। দু’দিন আগে থেকেই তিনি প্রয়োজনীয় নথি—পাসপোর্ট, আধার কার্ড (Aadhaar Card)—সব প্রস্তুত রেখেছিলেন। বাসের টিকিট কেটে একাই রওনা দেন পেট্রাপোল সীমান্তের উদ্দেশে। কিন্তু বাসে ওঠার আগেই তল্লাশি শুরু হয়। এরপরই পাসপোর্ট ও ভিসা চেক করে আধিকারিকরা তাঁকে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করেন।
আফরিনার অভিযোগ, “আমার বৈধ পাসপোর্ট থাকার পরও যেতে দেওয়া হয়নি। আমার এবং বাবার আধার কার্ড, প্যান কার্ড (PAN Card) দেখিয়েছিলাম। কিন্তু আধিকারিকরা বলেন—‘ওগুলো তো বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।’ বাবার জমির দলিল আমার কাছে থাকার কথা নয়। তবুও সেটি চাইছিলেন ওঁরা। বললাম, সময় নষ্ট হলে বাসটা মিস করব—কিন্তু কেউ কিছু শুনলেন না।”
শেষমেশ দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আফরিনার দাবি, “আমি একজন মহিলা, প্রথমবার বিদেশ যাচ্ছিলাম বলেই হয়তো সন্দেহ করা হয়েছে। অথচ আমার সমস্ত নথি বৈধ ছিল। যদি নতুন কোনো নির্দেশিকা (Guideline) থাকে, তাহলে তা আগে জানানো উচিত ছিল।”
অন্যদিকে মীর হাসনাত বলেন, “আমি নিজে বহুবার বাংলাদেশে গিয়েছি বৈধ পাসপোর্টে, কখনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু এবার আমার মেয়েকে আটকানো হল। এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে পাসপোর্টই যথেষ্ট। কেউ কি বাড়ির দলিল নিয়ে ঘোরে?”
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মুর্শিদাবাদের তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খান (Abu Taher Khan) বলেন, “এটা একটি অপরাধমূলক কাজ (Criminal Offence)। পাসপোর্ট ভারত সরকার দেয় সমস্ত যাচাইয়ের পর। তবু যদি বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কাউকে আটকানো হয়, তাহলে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়া জরুরি।”
