দেশের খবর
ডাইনামাইট নয়, মানুষের হাতেই জয়! হিমালয়ের গর্ভে ৪.১ কিমি সুড়ঙ্গ খুঁড়ল রেল
ডিজিটাল ডেস্কঃ পাহাড়ের অন্দরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ২০২০ সালে শুরু হওয়া লড়াই শেষ হলো ২০২৬-এর মার্চের প্রথম সপ্তাহে। তিস্তা বাজার ও মেলি বাজারের মধ্যবর্তী হিমালয়ের গর্ভ থেকে প্রায় ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ (Tunnel) তৈরির কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। এর সাথেই সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের (Sivok-Rangpo Rail Project) সবথেকে জটিল ও কঠিনতম চ্যালেঞ্জটি অতিক্রম করা সম্ভব হলো।
হিমালয়ের এই অংশের পাথর ও মাটি অত্যন্ত ‘শৈশব’ বা ভঙ্গুর অবস্থায় থাকায় সেখানে প্রথাগত ডিনামাইট বিস্ফোরণ (Dynamite blast) ঘটানো অসম্ভব ছিল। ডিনামাইট ব্যবহার করলে বড় ধরনের ধস বা বিপর্যয়ের (Disaster) আশঙ্কা ছিল। তাই ঝুঁকি না নিয়ে প্রকল্পের প্রধান ডিজাইনার (Chief Designer) আরমান্দো ক্যাপেলানের নেতৃত্বে প্রায় ৬০০ ইঞ্জিনিয়ার এবং হাজার হাজার শ্রমিক কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন। আধুনিক যন্ত্রপাতির বদলে অনেকটা আদিম কায়দায় গাঁইতি ও বেলচার (Pickaxe and Shovel) সাহায্যে দু’দিক থেকে পাথর সরিয়ে এই দীর্ঘ পথ খনন করা হয়েছে। অবশেষে সুড়ঙ্গের দুই প্রান্ত পি-১ এবং পি-২ যুক্ত হতেই শ্রমিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে খুশির জোয়ার বয়ে যায়।
প্রকল্পের বরাতপ্রাপ্ত সংস্থা ইরকনের প্রোজেক্ট অ্যাডভাইজার (Project Advisor) মহিন্দর সিং জানিয়েছেন, নরম মাটিতে সুড়ঙ্গ করা ছিল চরম চ্যালেঞ্জিং। প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইনের ৩৯ কিলোমিটারই যাবে সুড়ঙ্গের ভিতর দিয়ে। বর্তমানে প্রকল্পের ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ। ৪৪.৯৮ কিলোমিটারের এই ব্রড-গেজ (Broad-gauge) লাইনটি সিকিমকে ভারতের জাতীয় রেল মানচিত্রের সঙ্গে যুক্ত করবে, যা চিন সীমান্তের সামরিক কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রেল সূত্রে খবর, এই প্রকল্পে মোট ১৪টি টানেল এবং ২২টি সেতু (Bridge) রয়েছে। ১১,৯৭৩ কোটি টাকার এই মেগা প্রজেক্টটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিলিগুড়ি থেকে সিকিম সীমান্তে সড়কপথে যেতে ৫ ঘণ্টা সময় লাগলেও, ট্রেন চলাচল শুরু হলে মাত্র ১ ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যাবে।
