ভাইরাল খবর
মায়ের মৃত্যুর তিন বছর পর গয়ায় মোদির পিণ্ডদান, ভোটের আগে রাজনীতির গন্ধ
ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) মায়ের মৃত্যুর প্রায় তিন বছর পর গয়ায় (Gaya) গিয়ে পিণ্ডদান (Pind Daan) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সরকারি কোনো ঘোষণা হয়নি, তবে বিজেপি (BJP) সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর — অর্থাৎ নিজের জন্মদিনেই — গয়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
সেখানে তিনি একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে এক মেগা রোড শো (Road Show), একটি সম্ভাব্য জনসভা (Public Rally) এবং পরে তাঁর প্রয়াত মা হীরাবেনের (Hiraben) আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে পিণ্ডদান। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই রাজনীতির হাওয়া গরম হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে হীরাবেন প্রয়াত হন। পরের বছর, ২০২৩ সালের ৭ মে, প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাই পঙ্কজ মোদি (Pankaj Modi) বারাণসীতে (Varanasi) গিয়ে মায়ের জন্য পিণ্ডদান করেছিলেন। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru), কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে (Election Campaign)। এমনকি মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মস্তকমুণ্ডন (Tonsure) করেননি, এই নিয়েও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিল।
এই বছর, পিতৃপক্ষ (Pitru Paksha) চলাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি গয়ায় গিয়ে শ্রাদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গয়া হল পিতৃতীর্থ (Pitrutirth), যেখানে ভগবান বিষ্ণু (Lord Vishnu) পিতৃদেবতা রূপে বিরাজ করেন। গয়ায় ফল্গু নদীর (Phalgu River) তীরে পিণ্ডদান করলে সাত প্রজন্মের পূর্বপুরুষ তৃপ্ত হন বলে মানা হয়।
সূত্রের খবর, গয়ায় এই পিণ্ডদানের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। স্থানীয় পুরসভা (Municipality) ও প্রশাসন পরিকাঠামো সাজাতে ব্যস্ত। একই দিনে গয়ায় একটি বড় জনসভা করার সম্ভাবনাও থাকছে প্রধানমন্ত্রীর।
কিন্তু ঠিক বিহারের (Bihar) ভোটের আগে, এবং বিশেষ করে “ভোটার অধিকার যাত্রা” (Voter Adhikar Yatra)-র মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মা নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের পরপরই পিণ্ডদানের ঘোষণা ঘিরে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে। কংগ্রেস (Congress) এবং আরজেডি (RJD) দাবি করছে, প্রধানমন্ত্রী কি তাঁর মায়ের শ্রাদ্ধকেও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছেন?
বিরোধীদের প্রশ্ন, “মায়ের মৃত্যু তিন বছর আগে হলেও এতদিন পিণ্ডদানের কথা মনে পড়েনি। ঠিক বিহার ভোটের আগে কেন এই সিদ্ধান্ত?” এই প্রশ্নই এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।


