মধ্যমগ্রাম ট্রলি কাণ্ড: সোনা আর সম্পত্তির লোভে মা-মেয়ে খুনের দোষী সাব্যস্ত
Connect with us

খুন

মধ্যমগ্রাম ট্রলি কাণ্ড: সোনা আর সম্পত্তির লোভে মা-মেয়ে খুনের দোষী সাব্যস্ত

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ মধ্যমগ্রামের (Madhyamgram) কুখ্যাত ট্রলি কাণ্ডে (Trolley Murder Case) সোনা ও সম্পত্তির লোভই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়াল পিসি-শাশুড়ি সুমিতা ঘোষের জন্য। বারাসতের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত শুক্রবার মা-মেয়ে আরতি ঘোষ (Arti Ghosh) ও ফাল্গুনী ঘোষকে (Falgunni Ghosh) দোষী সাব্যস্ত করেছে। আট মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয় পুরো বিচারপ্রক্রিয়া। আগামী সোমবার বিচারক প্রজ্ঞা গার্গী ভট্টাচার্য (Pragya Bhargava) এই মামলার সাজা ঘোষণা করবেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে আসে এই বিভীষিকাময় ঘটনা। তদন্তে উঠে আসে, বিবাহবিচ্ছেদের পর সুমিতা ঘোষ অসমে ভাইয়ের বাড়িতে থাকতেন। সেখান থেকে ফাল্গুনী ঘোষের সঙ্গে বিবাহ হয় তার ভাইপোর (Nephew)। সংসারে অশান্তি শুরু হলে ফাল্গুনী তার মা আরতি ঘোষের কাছে ফিরে আসে। দু’জনে ভাড়া থাকতেন মধ্যমগ্রামের দক্ষিণ বীরেশপল্লিতে।

ঘটনা ২৩ ফেব্রুয়ারির। সুমিতার সঙ্গে ঝগড়ার সময় ফাল্গুনী ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করে ফেলেন। পরে মা আরতির সঙ্গে মিলে সুমিতার শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। মৃতার দেহ থেকে সোনার গয়না (Gold Jewelry) বের করে তারা বিক্রি করে প্রায় ২ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা আয় করে, যার একটি অংশ দিয়ে ফাল্গুনী নতুন গয়না কেনেন।

Advertisement
ads

২৪ ফেব্রুয়ারি মা-মেয়ে দেহটি বাড়িতে রেখে বড়বাজারে ট্রলি কেনেন। একই দিনে ফাল্গুনী সোনার দোকানে ১ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকার গয়নার অর্ডার দেন, মৃতার নামেই বিল কাটা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে ট্রলি ট্যাক্সিতে করে কুমোরটুলি ঘাটে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহের কারণে ধরা পড়ে। নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ ট্রলি থেকে সুমিতার দেহ উদ্ধার করে।

পরে মধ্যমগ্রাম থানার হাতে আসে তদন্তভার। ঘটনার পুনর্গঠন, ফরেনসিক রিপোর্ট, ট্যাক্সি ও ভ্যান চালকের জবানবন্দি, সোনার দোকানের মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ— সব মিলিয়ে চার্জশিট জমা হয়। মোট ৩২ জন সাক্ষীর বয়ান শোনার পর ভারতীয় ন্যায়সংহিতা (Indian Penal Code) 103(1) ও 238 ধারায় ফাল্গুনী ও আরতিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

Continue Reading
Advertisement