উত্তর দিনাজপুর
প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে মাধ্যমিকে স্কুলসেরা রায়গঞ্জের কোয়েল বর্মন
ডিজিটাল ডেস্কঃ শরীর প্রায় পুরোপুরি অসাড়। কথা বলতে গিয়ে জড়িয়ে যান, চলাফেরা তো দুরের কথা, ঠিকভাবে বসাও সম্ভব নয়। কিন্তু এত প্রতিকূলতার মধ্যেও রায়গঞ্জের (Raiganj) কিশোরী কোয়েল বর্মন (Koyel Barman) প্রমাণ করে দিল, ইচ্ছেশক্তির কাছে সব বাধা তুচ্ছ। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সে পেয়েছে ৩৮৮ নম্বর—যা তার স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ। অদম্য এই সাফল্যে খুশিতে ভাসছে পরিবার, প্রতিবেশী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
রায়গঞ্জ শহরের নিউ উকিলপাড়ার এক চিলতে টিনের ছাউনি ঘরেই বেড়ে ওঠা কোয়েলের। প্রয়াত মধুসূদন বর্মনের (Madhusudan Barman) বড় মেয়ে সে। ছোটবেলা থেকেই শারীরিকভাবে বিশেষভাবে সক্ষম কোয়েলকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে লড়াই করতে হয়েছে। এমনকি একা বসতেও পারেন না। তবুও শিক্ষা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেননি। বরং কঠিন পরিস্থিতিকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে সে।
কোয়েল, রায়গঞ্জ সৎসঙ্গ বালিকা বিদ্যালয়ের (Satsang Balika Vidyalaya) ছাত্রী, জানায়—এই সাফল্যে সে দারুণ খুশি। ভবিষ্যতে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়ে গ্র্যাজুয়েট হয়ে চাকরি করার স্বপ্ন দেখছে সে। মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় রাইটারের (writer’s) সাহায্যে উত্তর লিখেছে কোয়েল। তার মনোবলই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। কোয়েলের মা ভারতী বর্মন (Bharati Barman), যিনি পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান, মেয়ের এই সাফল্যে আবেগে ভেসে যান। বলেন, “কষ্ট করে মানুষ করছি। আজ ওর ফল শুনে সব কষ্ট সার্থক। আমি ওর পড়াশোনার জন্য যতটা পারি, করব।”
আরও পড়ুনঃ বিজেপির ‘ব্যাগেজ’ নেতাদের মুখোশ খুলবেন দিলীপ ঘোষ, হুঁশিয়ারি দিলেন প্রকাশ্যে
গৃহশিক্ষিকা নেহা রায় (Neha Roy) জানালেন, “৫-৬ বছর ধরে কোয়েলকে পড়াচ্ছি। ওর মতো মনোযোগী ছাত্রী খুব কমই পাই। প্রথম বড় পরীক্ষাতেই ওর এমন সাফল্যে খুবই খুশি।”
বিশেষ শিক্ষক ভবেশ শিকদার (Bhavesh Shikdar) বলেন, “১১ বছর ধরে ওকে গাইড করছি। কোয়েলের ডান পা খানিকটা সক্রিয়, সেটা দিয়েই সে প্রয়োজনীয় কাজ করে। আমরা ওর জন্য গর্বিত।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অনুরাধা সেন (Anuradha Sen) বলেন, “এই কঠিন শরীর নিয়ে যেভাবে কোয়েল সবার মধ্যে সেরা হয়েছে, তা অনুপ্রেরণাদায়ক। ওর ভবিষ্যৎ যাতে আরও উজ্জ্বল হয়, সেই কামনাই করি।”
জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় এই সাফল্য কোয়েলের জন্য শুধু একটি অধ্যায়ের শুরু। সমাজের কাছে সে এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত, যে ইচ্ছা থাকলে অক্ষমতা কখনও বাধা হতে পারে না।
