ধুলিসাৎ ইরানের সুপ্রিম লিডারের দপ্তর; খামেনেই জমানার অন্ত, কোন পথে পারস্যের দেশ?
Connect with us

বিশ্বের খবর

ধুলিসাৎ ইরানের সুপ্রিম লিডারের দপ্তর; খামেনেই জমানার অন্ত, কোন পথে পারস্যের দেশ?

মার্কিন ও ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। সপরিবারে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। ইরানে কি তবে মোল্লাতন্ত্রের অবসান হতে চলেছে? পড়ুন বিস্তারিত।

Dipa Chakraborty

Published

on

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক মহাপ্রলয়। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির কিছুক্ষণ পরেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপে সুপ্রিম লিডারের দপ্তর: রবিবার ভোরে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানায়, শনিবার নিজের দপ্তরে কাজ করার সময় অতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘শহিদ’ হয়েছেন খামেনেই। বিবিসি-র প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, তেহরানে খামেনেইর অফিস কার্যত ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। হামলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরাও। এই হামলায় খামেনেইর পাশাপাশি তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতি-নাতনিদেরও মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।

পালাননি, লড়েছেন শেষ পর্যন্ত: ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, খামেনেই কোনো সুড়ঙ্গে আত্মগোপন করেননি। তিনি জনগণের সেবায় নিজের দপ্তরেই কর্মরত ছিলেন। শত্রুপক্ষ তাঁর পালানোর ভুয়ো খবর ছড়িয়ে মানসিক যুদ্ধ চালানোর চেষ্টা করলেও তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তেহরানেই ছিলেন।

ইতিহাসের পাতায় এক দীর্ঘ অধ্যায়: ১৯৩৯ সালে পবিত্র মাশহাদ শহরে জন্ম নেওয়া খামেনেই ছিলেন ১৯৭৯-এর ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম কাণ্ডারি। তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা রুহোল্লাহ খোমেনেইয়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে রাজতন্ত্র উচ্ছেদ করে ইরানে মোল্লাতন্ত্র কায়েমে বড় ভূমিকা নেন তিনি। এককালে যে ইরান পশ্চিমী প্রভাবে ‘ইরান বসন্ত’ দেখছিল, রাজপরিবারের দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের জেরে সেখানে কট্টরপন্থী শাসনের উত্থান ঘটে। খোমেনেইয়ের মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে খামেনেই ক্ষমতার শীর্ষে বসেন।

Advertisement
ads

ভবিষ্যৎ কোন পথে? গত বছরের শেষভাগ থেকেই ইরানে হিজাব বিরোধী আন্দোলন ও মোল্লাতন্ত্র বিরোধী বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছিল। খামেনেইয়ের প্রয়াণে এখন বড় প্রশ্ন—তবে কি ইরানে দীর্ঘ চার দশকের ইসলামি শাসনের অবসান হতে চলেছে? নাকি অন্য কোনো কট্টরপন্থী বা আমেরিকা-ঘনিষ্ঠ শাসক এসে ইরানের হাল ধরবেন? উত্তর খুঁজতে এখন গোটা বিশ্বের নজর তেহরানের দিকে।

Continue Reading
Advertisement