ভাইরাল খবর
‘আইন না থাকলে গুলি করতাম’, কসবা ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে খোলাখুলি বিদ্রোহে কল্যাণ, দল জানাল অসন্তোষ
ডিজিটাল ডেস্কঃ কসবা ল কলেজ (Kasba Law College) ধর্ষণকাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে রীতিমতো উত্তাল পরিস্থিতি। ঘটনার নিন্দায় ফের তীব্র বার্তা দিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। শনিবার এক কর্মসূচিতে তিনি বলেন, “যে সহকর্মী মহিলার নিরাপত্তা রক্ষা করার কথা, সে যদি বিশ্বাস ভেঙে ধর্ষণ করে, তাহলে তা মানবতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বিপরীতে। আমি এটা মেনে নিতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিতে পুরুষদের কাজ হল মহিলাদের পাশে থাকা, তাঁদের রক্ষা করা। কিন্তু রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়ে যায়, তাহলে সমাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?” তাঁর বক্তব্য, এমন অপরাধীদের সঙ্গে দলীয় সম্পর্ক ত্যাগ করা উচিত। “এই মানসিকতার ছেলেরা দলে থাকার যোগ্য নয়। দল থেকে বের করে দিলে মানুষই খুশি হবে।” “আইন না থাকলে এই ধর্ষকদের ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে গুলি করা উচিত। যারা ধর্ষণে যুক্ত, তাদের ফাঁসি হওয়া উচিত। আইন আছে বলেই তারা বেঁচে যাচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃ ‘সিপিএমের ভবিষ্যৎ মুখ’-এর মুখেই অশ্লীলতা! মীনাক্ষীর ভাষা ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে
তবে কল্যাণের এই ভাষ্য ঘিরেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট করে জানায়, সাংসদের এই বক্তব্য তাঁর একান্ত নিজস্ব মত, দল তা সমর্থন করে না বরং তীব্রভাবে নিন্দা করে। এক্স হ্যান্ডেলে দলের পোস্ট ঘিরে কল্যাণও ক্ষুব্ধ। পালটা প্রশ্ন তোলেন তিনি, “তাহলে কি দল সেই অপরাধীদের আড়াল করা নেতাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে?”
তিনি বলেন, “শুধু বিবৃতি দিলেই হবে না। দলকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।” ছাত্র পরিষদের (TMCP) বর্তমান নেতৃত্বের দিকেও ইঙ্গিত করে বলেন, “কলেজ যদি চারটেয় ছুটি দেয়, ছটা পর্যন্ত সেখানে থাকার কী প্রয়োজন?”
প্রসঙ্গত, শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের আইন ছাত্র মনোজিৎ মিশ্র (Manojit Mishra) সহ তিনজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, গার্ডরুমে আটকে রেখে সহপাঠী ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। অভিযুক্তরা সবাই ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত।
এই ঘটনাই এবার তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
