রাজনীতি
“আমার কোনও ক্ষমতা নেই, তবু আমি এখন ১০০ কোটির মালিক!” — বিতর্কে ফের মদন মিত্র
ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। এর আগেও দলীয় পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC) ও তৃণমূলের (TMC) অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। এবার নিজ নির্বাচনী এলাকা কামারহাটি (Kamarhati) বিধানসভায় এক কর্মিসভার মঞ্চ থেকে দলের কর্মীদের একাংশকে প্রকাশ্যে তীব্র কটাক্ষ করলেন এই প্রবীণ নেতা।
সভায় উপস্থিত হয়ে মদনবাবু বলেন, “এখানে যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ তৃণমূলের দেওয়া চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যেই কিছু লোক আছেন, যাঁরা তৃণমূল দলটাকেই খুবলে খাচ্ছেন।” তাঁর ভাষায়, “আজ যাঁরা ভাবছেন তৃণমূলের জুতোর তলায় গিয়ে আশ্রয় নিতে হবে, তাঁদের বলে রাখি— বাঁচাতে কেউ আসবে না। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, সভায় উপস্থিত বহু কর্মীই দলের দয়ায় চাকরি পেয়েছেন। তাই দায়বদ্ধতাও থাকা উচিত।”
আরও পড়ুনঃ প্রেমের ফাঁদে প্রতারণা? বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক, গ্রেপ্তার মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন
এতেই থেমে থাকেননি মদন। কর্মীদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে ওয়ার্ড ধরে ধরে তদন্তের নির্দেশ দেন ব্লক সভাপতিদের উদ্দেশে। বলেন, “কারা মিটিংয়ে আসছে না, মিছিলে অংশ নিচ্ছে না—তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে। প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে দলের কাছে।”
প্রসঙ্গত, এই প্রথম নয়, মদন মিত্র এর আগেও দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন। এক সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূলের পদ পেতে গেলে টাকা লাগছে। একটি পুরনো বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, এর পরেই আসে তাঁর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য। মদন বলেন,
“আমি মদন মিত্র একজন এমএলএ ছিলাম, আমার কোনও ক্ষমতাই ছিল না। তবু রাতারাতি আমি এখন ১০০ কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছি!” হঠাৎ করে শুনলাম, আমাকে মন্ত্রী হতে হলে ১০ কোটি টাকা লাগবে। আমি টাকা দিয়ে দিলাম। মন্ত্রী হলাম কি হলাম না সেটা পরের কথা। কিন্তু এর কোনও লিখিত প্রমাণ নেই। এটাই টাকার লেনদেনের বাস্তবতা।”
তৃণমূলের অন্দরেই এই মন্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দলীয় একাংশ মনে করছে, ছাব্বিশের (2026) বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে মদন মিত্র ফের নিজের ‘ঢঙে’ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তবে তাঁর এই ধারালো মন্তব্যের পর দল কী প্রতিক্রিয়া জানায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
