রাজনীতি
দলের চাপে মাথা নোয়ালেন অনুব্রত, হাজিরা দিলেন বোলপুর এসডিপিও অফিসে
ডিজিটাল ডেস্কঃ শেষমেশ হাজিরা দিলেন বোলপুর এসডিপিও অফিসে। সাত দিন আগে থানার আইসি লিটন হালদারকে (Liton Halder) কুরুচিকর গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জড়ানো তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের মুখোমুখি হলেন। দীর্ঘ ‘বেড রেস্ট’-এর অজুহাতে পুলিশি তলব এড়ালেও এ দিন দুপুর ৩টে ২৫ মিনিটে দপ্তরে ঢোকেন তিনি।
চিকিৎসকদের পরামর্শে পাঁচদিন বিশ্রামে থাকার কথা জানিয়ে শনিবার ও রবিবার পুলিশের নোটিস ফেলেছিলেন কেষ্ট। তবে বুধবার শেষ হয় সেই বিশ্রামের সময়সীমা। ফলে বৃহস্পতিবার আর বিলম্ব করেননি বীরভূমের তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা। পুলিশের তরফে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় তাঁর সঙ্গে।
আরও পড়ুনঃ কেমোথেরাপির মাঝে জীবনের জয়, প্রেমিক রকিকে বিয়ে করলেন হিনা খান
গত সপ্তাহে বোলপুর থানার আইসি-কে ফোনে হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন অনুব্রত, এমনই দাবি। সেই অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Viral Audio Clip)। তাতে আইসি লিটন হালদার এবং তাঁর মা ও স্ত্রীর উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য করতে শোনা যায় কেষ্টকে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে প্রকাশ্যে কড়া বার্তা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে দলীয় চাপেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চান অনুব্রত।
তবে এ ঘটনা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। অনুব্রতের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে একাংশ। অন্যদিকে, আইসি-র বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। এমনকী তদন্তের স্বার্থে লিটনের মোবাইলও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এতে পুলিশ বাহিনীর একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হুমকির অভিযোগে অভিযুক্ত নেতা এখনও বহাল তবিয়তে, আর শাস্তির মুখে পড়েছেন বরং যিনি হুমকি পেয়েছিলেন!
এই প্রতিবেদন লেখা অব্দি থানাতেই রয়েছেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হবে কি না, কিংবা এই ঘটনায় আরও কী পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন, তা জানা যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ফের শোরগোল শুরু হয়েছে।
