ভাইরাল খবর
দুই রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম, প্রশান্ত কিশোরকে জবাবদিহি করতে বলল নির্বাচন কমিশন
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিতর্কে বিহারের (Bihar) জন সূরাজ পার্টির (Jan Suraj Party) প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। সূত্রের খবর, একযোগে বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) ভোটার তালিকায় তাঁর নাম পাওয়া গিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশান্ত কিশোরের কোনও মন্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি।
এই তথ্য সামনে আসতেই বিহারের রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশান্তকে একহাত নিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
এদিকে, দুই রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম থাকার ঘটনায় তাঁকে নোটিশ (Notice) পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন এবং কীভাবে তাঁর নাম দুটি রাজ্যের তালিকায় রয়েছে।
একসময় প্রশান্ত কিশোর ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ভোটকুশলী (Election Strategist)। সূত্র অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর (Bhabanipur) কেন্দ্রে ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে, ঠিকানা — 121 কালীঘাট রোড (121 Kalighat Road), যেখানে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ও অবস্থিত। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভবানীপুরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিধানসভা কেন্দ্র।
বিজেপি (BJP) নেতা অমিত মালব্য (Amit Malviya) এক্স (X)-এ লিখেছেন, “জন সূরাজের (Jan Suraj) প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার দুই রাজ্যেরই ভোটার। কিন্তু তাঁর দলের কোনও বাস্তব প্রভাব নেই। রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সহযোগীরা সব ভোট কারচুপিতে জড়িত — এই ভণ্ডামিই আশ্চর্যজনক।”
অন্যদিকে, বিহারে প্রশান্ত কিশোরের নাম রয়েছে সাসারাম (Sasaram) লোকসভা এলাকার কারগাহার (Karagahar) বিধানসভা কেন্দ্রে। তাঁর ভোটকেন্দ্র কোনারের (Konar) মধ্য বিদ্যালয় (Middle School), যা তাঁর পৈতৃক গ্রাম।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট (https://electoralsearch.eci.gov.in) অনুযায়ী, কলকাতার রানি শঙ্করী লেনের সেন্ট হেলেন স্কুল (St. Helen School)-এর বুথেও তাঁর নাম পাওয়া গিয়েছে।
সম্প্রতি বিহারের 209 নম্বর কারগাহর বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার (Returning Officer) প্রশান্ত কিশোরকে শোকজ নোটিশ (Show Cause Notice) পাঠিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “28.10.2025 তারিখে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী আপনার নাম বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় রয়েছে। কেন দুটি জায়গায় নাম রয়েছে, তা আগামী তিন দিনের মধ্যে জানাতে হবে।”
যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি উত্তর না দেন, তবে 1950 সালের জনপ্রতিনিধি আইন (Representation of the People Act, 1950) অনুযায়ী তাঁর এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Chief Election Commissioner Jhanesh Kumar) বলেন, “যদি কোনও ভোটার একাধিক এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) পূরণ করেন, তবে তাঁর নাম একাধিক জায়গায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এটি আইনত অপরাধ।”
প্রশান্ত কিশোর বর্তমানে বিহারের নির্বাচনে তাঁর জন সূরাজ পার্টির পক্ষ থেকে ২৪৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছেন, যদিও তিনি নিজে প্রার্থী নন।
