বাংলাদেশ
যুদ্ধকালীন সংকটে ইরানের পাশে নেই বাংলাদেশ, সমালোচনার মুখে ইউনুস
ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনার মধ্যে যখন মুসলিম বিশ্বের ৩৬টি রাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়েছে, তখন বাংলাদেশ সেই তালিকায় অনুপস্থিত। এই পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মুসলিম সমাজের একাংশ চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, বিশেষত নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের অবস্থান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, তখন মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের স্বার্থে বহু দেশ ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মুসলিমপ্রধান দেশ বাংলাদেশ— যেটি ইসলামী ঐতিহ্য ও পররাষ্ট্র নীতিতে মুসলিম সংহতির পক্ষে বরাবর কথা বলেছে— সেই দেশ এবার নীরব। এই অবস্থানকে ‘নিরপেক্ষ’ না বলে অনেকেই দেখছেন ‘নেতৃত্বহীনতা’ হিসেবে।
বিশেষত, ইসলামী চিন্তাবিদ, মুসলিম যুবসমাজ ও কিছু প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন— যেখানে কাতার, মালয়েশিয়া, তুরস্কের মতো দেশ প্রকাশ্যে ইরানের পক্ষে বিবৃতি দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ সরকারের এই নীরবতা কি নীতিগত ব্যর্থতা নয়?
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবতা ও শান্তির পক্ষের মুখ হিসেবে পরিচিত ড. ইউনুসকেও এই প্রসঙ্গে কিছু বলতে শোনা যায়নি। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর এই নিশ্চুপতা তাঁকে মুসলিম সমাজের থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
যুদ্ধাবস্থার এই স্পর্শকাতর সময়ে মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বের ঘাটতি প্রকট হচ্ছে— আর বাংলাদেশ সেই সুযোগে কার্যত প্রান্তিক দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে, যা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।
