অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, অনুব্রতের গ্রেফতার চায় বিরোধীরা
Connect with us

ভাইরাল খবর

অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, অনুব্রতের গ্রেফতার চায় বিরোধীরা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: এক পুলিশ অফিসারকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে তৃণমূলের বীরভূম জেলার প্রাক্তন সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে ফোনে গালিগালাজের একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পরই, নবান্নের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা রুজু হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁকে চার ঘণ্টার মধ্যে সবার সামনে ক্ষমাও চাইতেও বলে।

এই ঘটনার জেরে অনুব্রতের অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবিতে একযোগে সরব হয়েছে রাজ্যের প্রধান তিন বিরোধী দল—বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar), সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম (Mohd. Salim) এবং কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)—তিনজনই মত প্রকাশ করেছেন, পুলিশ ও তাঁদের পরিবারের সম্মান বজায় রাখতে হলে অনুব্রতকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত।

তবে ভিন্ন সুর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) গলায়। তাঁর দাবি, “এটা লঘু মামলা। অনুব্রতের কিছুই হবে না। জামিন পেয়ে যাবে, উল্টে দেখা যাবে আইসিকেই শাস্তি পেতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “এটা নতুন কিছু নয়। ২০১৩ সালেও অনুব্রত পুলিশের উদ্দেশে বোমা মারার কথা বলেছিলেন। তখনও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবারেও হবে না।”

বৃহস্পতিবার রাতেই ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে শোনা যায়, অনুব্রত মণ্ডল ফোনে আইসি-কে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন। এমনকি আইসির স্ত্রী ও মাকে নিয়েও কুরুচিকর মন্তব্য করেন তিনি। যা প্রশাসনিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

Advertisement
ads

তৃণমূল সূত্রে খবর, ভাইরাল অডিওর জেরে শুক্রবারেই দলের তরফে অনুব্রতকে চার ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে একদিকে দলের কাছে চিঠিতে দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি, অন্যদিকে সাংবাদিক বৈঠকেও ক্ষমা চান। যদিও সেইসঙ্গে নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন অনুব্রত।

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর ইস্যুতে ফের হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত, ভারত-পাক সংঘাত ঠেকাতে বাণিজ্য চুক্তির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

শনিবার সকাল ১১টায় তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে বোলপুরের এসডিপিও অফিসে। অপরদিকে সিপিএম নেতা সেলিম বলেন, “এ ধরনের গালিগালাজে সরাসরি গ্রেফতার হওয়া উচিত। এর নিন্দা করার ভাষা নেই।” অধীর চৌধুরী আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “ক্ষমা চাওয়ার নাটক কেন? ওকে এখনই গ্রেফতার করা হোক।”

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “এটাই তৃণমূলের আসল চেহারা। পুলিশকে কীভাবে দেখে, তা এবার গোটা বাংলা দেখল। এসব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি সংস্কৃতি।” সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এভাবে পুলিশের পরিবারের সম্মান নিয়ে ছেলেখেলা চললে প্রশাসনের মনোবল থাকবে না। ডিজি নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।”

Advertisement
ads

তবে রাজ্য মন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) শুক্রবার বলেছিলেন, “মিডিয়া এই ঘটনা অত্যধিক হাইলাইট করছে।” শনিবার অবশ্য তৃণমূলের অবস্থান কিছুটা পাল্টে যায়। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “অনুব্রতের বক্তব্য দল সমর্থন করে না। তবে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করা হবে না।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং দলের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।

[shortened_url]

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement