ভাইরাল খবর
মিথ্যে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার! পরিবার গৃহবন্দি, উঠছে প্রশ্ন নির্যাতিতার দাবির সত্যতা নিয়ে
ডিজিটাল ডেস্কঃ দুর্গাপুরের (Durgapur) বিজড়া (Bijra) ও মহুয়াবাগান (Mahuyabagan) গ্রামের পাঁচটি পরিবার আজ কার্যত সমাজচ্যুত। ‘গণধর্ষণ’ (Gang rape) কাণ্ডে ছেলেরা জেলে, আর পরিবারের বাকিরা লোকলজ্জায় গৃহবন্দি।
তবে যা প্রথমে মনে হয়েছিল, এখন তা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ অনুযায়ী, এক মেডিক্যাল পড়ুয়া ছাত্রী এবং তাঁর প্রেমিক ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। কিন্তু তদন্তে ক্রমে ফাঁসছে অন্য চিত্র।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযোগটি সাজানো (Fabricated)। হয়তো কোনও বিষয় আড়াল করতেই এই অভিযোগ তোলা হয়েছিল। যদিও এখনও তদন্ত চলছে, এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা (Case) চলছে। তাই পরিবারগুলোর স্বস্তি নেই।
ধৃতদের মধ্যে একজন পুরসভার অস্থায়ী কর্মী (Temporary municipal worker) শেখ নাসিরউদ্দিন (Sheikh Nasiruddin)। তাঁর দিদি হাসিনা বিবি কান্নাজড়িত গলায় জানান,
“ভাই বাড়ি ফিরেছিল অফিস শেষে। ও ধর্ষক (Rapist) হতে পারে না। পুলিশ ফাঁসিয়েছে।”
আরেক অভিযুক্ত শেখ সফিকুল (Sheikh Safikul)-এর বাবা সৈয়দ হুসেন (Syed Hossain) জানলা দিয়ে বলেন,
“আইনের উপর আমাদের ভরসা আছে। যা জানার পুলিশ বলবে।”
পরিবারগুলোর জীবনে নেমে এসেছে নীরব দুর্যোগ। দৈনিক কাজ বন্ধ, সমাজে মেলামেশা বন্ধ, কেবল লজ্জা আর আতঙ্ক। অভিযুক্ত অপু বাউরির (Apu Bauri) দাদা সংবাদমাধ্যমকে ক্ষোভে বলেন,
“আপনারা কিছু না জেনেই ভাইকে ধর্ষক বানিয়ে দিলেন?”
শেখ ফিরদৌসের (Sheikh Firdaus) পরিবার তো গ্রাম ছেড়েই পালিয়েছে। দরজায় তালা, কেউ জানে না তারা কোথায়।
আর এক অভিযুক্ত শেখ রিয়াজুদ্দিনের (Sheikh Riazuddin) মামা শেখ রেজাউল (Sheikh Rezaul) বলেন,
“সব শেষ। লজ্জায় বাড়ির বাইরে বের হতেও পারছি না।”
স্থানীয়রা বলছেন,
“প্রথমে পুলিশ বলল ৫ জন গণধর্ষণ করেছে। পরে কমিশনার বলছেন এক জন ধর্ষক। তাহলে বাকিদের কেন ধরা হল?”
বিজড়া হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শেখ নিজামুদ্দিন বলেন,
“এই ঘটনায় আমরা লজ্জিত। ধৃতদের মধ্যে দুজন আমার ছাত্র ছিল। খুব দুঃখ হচ্ছে।”
এই পুরনো গ্রামে এমন কলঙ্কের (Disgrace) ঘটনা প্রথম। গ্রামবাসীরা প্রশ্ন তুলছেন—এই দায় কার?


