ভাইরাল খবর
মহিলা সাংসদদের কটূক্তি ও দুর্ব্যবহার! সংসদে সাসপেন্ড তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ
ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) চলতি বাদল অধিবেশনের (Monsoon Session) বাকি সময়ের জন্য লোকসভা (Lok Sabha) থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্পিকার ওম বিড়লা।
জানা গিয়েছে, অধিবেশন চলাকালীন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের সাংসদদের সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বচসা শুরু হয়। এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় এবং মিতালি বাগের সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি হয় বলে খবর। অভিযোগ, সেই সময় মহিলা সাংসদদের উদ্দেশে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন কল্যাণ।
এরপর কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ কয়েকজন সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগে দাবি করা হয়, কল্যাণের মন্তব্য সংসদের মর্যাদা (Dignity of Parliament) এবং শালীনতার পরিপন্থী।
অভিযোগের ভিত্তিতে সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল লোকসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনেন। ভোটাভুটির পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়। ফলে বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতে তিনি আর লোকসভার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
এই সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বক্তা এবং মুখ্য সচেতক (Chief Whip) ছিলেন। সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে দলের হয়ে সরব হতে দেখা যেত তাঁকে।তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এই সাসপেনশনের বিরোধিতা করে এটিকে অগণতান্ত্রিক বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে অভিযোগকারী সাংসদরা জানিয়েছেন, সংসদের ভিতরে মহিলা সদস্যদের সম্মান রক্ষার জন্যই তাঁরা অভিযোগ জানিয়েছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল (Internal Conflict) আরও প্রকাশ্যে এসেছে। এখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়ে, সেটাই নজরে।
