সিকিমে সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০! উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই বিধায়ককে পাঠালেন শুভেন্দু
Connect with us

দুর্ঘটনা

সিকিমে সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০! উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই বিধায়ককে পাঠালেন শুভেন্দু

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ সিকিমের (Sikkim) নামচি (Namchi) জেলার সামারডুং এলাকায় নির্মীয়মাণ এনএইচপিসি (NHPC)-র তিস্তা স্টেজ-VI (Teesta Stage-VI) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের (Hydroelectric Project) সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০-এ পৌঁছেছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও সুড়ঙ্গের (Tunnel) ভিতরে পাঁচজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন। জল, কাদা, ধোঁয়া এবং বিষাক্ত গ্যাসের কারণে উদ্ধার অভিযান (Rescue Operation) অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

সিকিম পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় মোট ২৫ জন শ্রমিক ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মী সুড়ঙ্গের ভিতরে ছিলেন। এখনও পর্যন্ত ১২টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি আটটি দেহের অবস্থান চিহ্নিত হলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সেগুলি এখনও বাইরে আনা সম্ভব হয়নি। মৃতদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে, বাকিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

প্রাথমিক তদন্তে এনএইচপিসি-র অনুমান, পাথরের মধ্যে জমে থাকা মিথেন গ্যাসের (Methane Gas) আকস্মিক বিস্ফোরণের (Explosion) জেরেই এই ধস নেমেছে। বিস্ফোরণের পর সুড়ঙ্গের ভিতরে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজে আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এনডিআরএফ (NDRF)-সহ একাধিক বিশেষজ্ঞ দল এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা খনি উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।

এদিকে, মৃতদের মধ্যে ১১ জন পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) শ্রমিক বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার এলাকার বাসিন্দা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনও আটকে থাকা শ্রমিকদের মধ্যেও বাংলার কয়েকজন থাকতে পারেন।

Advertisement
ads ads

ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা এবং কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে এবং নিয়মিত রিপোর্ট দিতে তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং (Prem Singh Tamang)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রয়োজনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি বিমানও উদ্ধারকাজে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সিকিম সরকার ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি (Investigation Committee) গঠনের ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকারও মৃতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ (Compensation) ঘোষণা করেছে। উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকছে সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার এবং মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা।

Continue Reading
Advertisement ads