উত্তরবঙ্গ
চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় আমূল বদল! ৩১৩ কোটির মেগা প্রকল্প ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরবঙ্গের (North Bengal) চা বাগান (Tea Garden) শ্রমিকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ধাঁচে এবার রাজ্যেও চালু হচ্ছে ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা’ (PMCSPY)। এই প্রকল্পের অধীনে শিক্ষা (Education), স্বাস্থ্য (Health) ও আবাসন (Housing) খাতে মোট ৩১৩.৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
শনিবার নবান্নে (Nabanna) উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। রবিবার সকালে সমাজমাধ্যমে (Social Media) পোস্ট করে এই ঘোষণা ভাগ করে নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি লেখেন, চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
We are committed to the comprehensive welfare, development of health and educational parameters of our hardworking Tea Garden Workers of North Bengal.
To ensure expeditious and smooth progress, our State Level Committee recently finalized the implementation plan for the ‘Pradhan… pic.twitter.com/LqpF7c21TC— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) July 5, 2026
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পটি মূলত তিনটি ভাগে বিভক্তঃ
প্রথমত, চা শ্রমিক শিক্ষা যোজনা (CSSY)-তে বরাদ্দ ১৭৭ কোটি টাকা। এই অর্থ দিয়ে চা বাগান এলাকার শিশুদের শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নত করা হবে।
দ্বিতীয়ত, চা শ্রমিক স্বাস্থ্যসুরক্ষা যোজনা (CSSHY)-তে ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (Healthcare) আরও শক্তিশালী করা হবে।
তৃতীয়ত, চা শ্রমিক আশ্রয় যোজনা (CSAY)-তে ৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, যেখানে মোট ৩২১টি বিশ্রামাগার (Rest Shelters) তৈরি করা হবে।
এই বিশ্রামাগারগুলিতে থাকবে সৌরবিদ্যুৎ (Solar Power), বিশুদ্ধ পানীয় জল (Drinking Water), বসার ব্যবস্থা ও উন্নত স্যানিটেশন (Sanitation) সুবিধা। পাহাড়ি এলাকায় ৮৮টি এবং সমতলে ২৩৩টি বিশ্রামাগার তৈরি হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর (North Bengal Development Department)। তাদের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতর, শিক্ষা দফতর এবং জেলা প্রশাসন সমন্বয় করে কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প উত্তরবঙ্গের চা শিল্পে দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
