রাজনীতি
“দিদি, আপনি এই কথা বলতে পারলেন?” চরম অভিমানে ইস্তফা দিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূল কংগ্রেসে (Trinamool Congress) নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনার সৃষ্টি হল। দলের রাজ্য সভাপতির (State President) পদ-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে ইস্তফা (Resignation) দিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শনিবার তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) চিঠি পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। শুধু রাজ্য সভাপতির পদই নয়, দলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের (Bank Account) সিগনেটরি (Signatory) এবং নির্বাচন কমিশয়ে (Election Commission) দলের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন তিনি।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চন্দ্রিমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে সংগঠনের হয়ে কাজ করেছেন। ৩ জুন তাঁকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং সেই দিন থেকে নিয়মিত মেট্রোপলিটন (Metropolitan) দলের কার্যালয়ে উপস্থিত থেকেছেন। তবে সম্প্রতি মেট্রোপলিটন ভবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর তাঁর আনুগত্য নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
চন্দ্রিমার বক্তব্য, শুক্রবারের ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে তাঁকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি মেট্রোপলিটন ভবন অন্য গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিয়েছেন? এই অভিযোগে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হন। তাঁর কথায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলেও দলের প্রতি আনুগত্যে কখনও খামতি ছিল না। সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি সমস্ত দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর বৈঠকে চন্দ্রিমার ছেলে সৌরভ বসুকে দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। এরপরই চন্দ্রিমার এই পদত্যাগ সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে স্বাস্থ্য (Health), অর্থ (Finance), আইন (Law) এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব (Land & Land Reforms) দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বিধানসভা নির্বাচনের পর সংগঠন পুনর্গঠনের সময় তাঁকেই রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাঁর এই পদত্যাগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তিনি দলেই থাকবেন কি না, সে বিষয়ে অবশ্য স্পষ্ট কোনও মন্তব্য করেননি।
