ভাইরাল খবর
বিরোধী দলনেতা পদে আপাতত বহাল ঋতব্রত! স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না হাইকোর্ট
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে চলা রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মাঝে আপাতত স্বস্তি পেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। ফলে ঋতব্রতই আপাতত বিরোধী দলনেতা (Leader of Opposition) হিসেবে বহাল থাকছেন।
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) পরিষদীয় নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই পদে নির্বাচনের প্রস্তাব দেন। পরে স্পিকার ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
স্পিকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। গত কয়েকদিন ধরে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে মামলার শুনানি চলে। শুনানিতে স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্ন, দলীয় রেজোলিউশন (Resolution) এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির (Forgery) অভিযোগ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার আদালত জানায়, আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ (Interim Order) দেওয়া হচ্ছে না। ফলে স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। তবে মূল মামলার শুনানি চলবে এবং আগামী ২৮ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সব পক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলফনামা (Affidavit) ও পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা একে ‘নৈতিক জয়’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থনের ভিত্তিতেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ সেই অবস্থানকেই শক্তিশালী করেছে।
অন্যদিকে, শোভনদেবের পক্ষের দাবি, বিরোধী দলনেতা কে হবেন তা রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। সেই কারণেই তাঁরা মূল মামলায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন। ফলে বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন নজর ২৮ জুলাইয়ের শুনানির দিকে।
