ভাইরাল খবর
শুভেন্দুর সঙ্গে মেগা বৈঠকের পরই অ্যাকশন! স্পিকারকে চিঠি দিলেন ২০ তৃণমূল সাংসদের
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলার বিধানসভার পর এবার দেশের রাজধানীতেও তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে (Parliamentary Party) ঐতিহাসিক ভাঙন ধরল। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে সরাসরি চিঠি জমা দিয়ে দলত্যাগের এবং মোদী সরকারের এনডিএ (NDA) জোটে যোগ দেওয়ার বড় ঘোষণা করলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। সূত্রের খবর, লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যে ২০ জন সাংসদের সই করা চিঠি স্পিকারের দপ্তরে জমা পড়েছে। পরবর্তীতে আরও একজন সাংসদ এই শিবিরে যোগ দেওয়ায় বিদ্রোহীদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১।
দলত্যাগবিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) কোপ থেকে বাঁচতে বিদ্রোহী শিবিরের ন্যূনতম ১৯ জন সাংসদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, সেখানে ২১ জন সাংসদ একজোট হওয়ায় লোকসভার রাশ এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘আসল তৃণমূলে’র হাতে চলে গেল। এই বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী হিসেবে মুখ্য সচেতকের (Chief Whip) দায়িত্বে থেকে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি লোকসভায় বিদ্রোহীদের দলনেতা হতে চলেছেন এবং উপদলনেতা থাকছেন শতাব্দী রায়ই। এ দিন সকালেই দিল্লিতে ওম বিড়লার বাসভবনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই বিদ্রোহী সাংসদদের একটি মেগা বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পরই এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে আবেদন জানানো হয়।
বিদ্রোহী সাংসদদের এই তালিকায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় ছাড়াও রয়েছেন দেব, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ও কালিপদ সোরেনের মতো হেভিওয়েট নাম। এ প্রসঙ্গে সাংসদ শর্মিলা সরকার বলেন, “এটা একদিনের প্রতিফলন (Reflection) নয়। আমরা তৃণমূলের থেকে নিজেদের আলাদা করে নিয়েছি।” দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এই মেগা ভাঙন রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর পর জাতীয় স্তরে নতুন করে যখন ‘ইন্ডিয়া’ জোট মজবুত করতে চাইছিলেন মমতা, ঠিক তখনই ২১ জন সাংসদের এনডিএ শিবিরে যোগদানের এই সিদ্ধান্ত জাতীয় রাজনীতিতে (National Politics) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব এক লপ্তে অনেকটাই কমিয়ে দিল।
