অফবিট
ধর্ষকের মাথায় ছাতা ধরার মাশুল! শেষমেশ ইস্তফা দিলেন মহিলা কমিশনের প্রধান
ডিজিটাল ডেস্কঃ মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন বিতর্ক (Controversy) সৃষ্টি হওয়ার পর অবশেষে নিজের পদ থেকে ইস্তফা (Resignation) দিলেন রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রধান রুপালি চাকাঙ্কার। ঘটনার সূত্রপাত হয় এক অভিযুক্ত ‘ধর্ষক’ জ্যোতিষীর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জ্যোতিষী (Astrologer) অশোক খারাত শ্রী ঈশানেশ্বর মহাদেব মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান পদে আসীন ছিলেন এবং রুপালি নিজেও ওই ট্রাস্টের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন।
অভিযুক্ত অশোক খারাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তিনি জ্যোতিষচর্চার আড়ালে তন্ত্রের (Tantra) ফাঁদ পেতে এবং ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান করার অছিলায় মহিলাদের নিজের অফিসে ডাকতেন। এরপর সম্ভবত কোনো মাদক (Drug) খাইয়ে তাঁদের অচেতন করে ধর্ষণ (Rape) করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ঘরের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় সেই পুরো নারকীয় ঘটনা রেকর্ড করে রাখা হতো। পুলিশি তল্লাশিতে একটি পেন ড্রাইভ (Pen Drive) উদ্ধার হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫৮ জন মহিলার সাথে ওই ভণ্ড বাবার ‘অপকীর্তি’ ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিপত্তি বাঁধে যখন একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বয়ং ওই অভিযুক্তের মাথার ওপর ছাতা (Umbrella) ধরে রয়েছেন। এই ছবি ভাইরাল হতেই সাধারণ মানুষ ও বিরোধীরা রুপালির ইস্তফার দাবিতে সরব হন। যদিও প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় রুপালি দাবি করেছিলেন যে, অশোকের সাথে তাঁর পরিচয় খুবই সামান্য, তবুও বিতর্কের পারদ চড়তে থাকায় তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন।
৬৭ বছর বয়সী অশোক নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা অফিসার (Retired Naval Officer) বা ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। কেবল রুপালিই নন, বহু প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর সংস্পর্শে আসতেন বলে জানা যাচ্ছে। বর্তমানে কংগ্রেসের (Congress) পক্ষ থেকে মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের (Investigation) আবেদন জানানো হয়েছে।


