ভাইরাল খবর
SIR কাজ ও চাপ: ২৪ ঘণ্টায় দুই BLO–র মৃত্যুতে প্রশ্নের ঝড়
ডিজিটাল ডেস্কঃ মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইজন বুথ লেভেল অফিসার (BLO) তথা স্কুলশিক্ষকের মৃত্যুতে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়েছে। পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগ—এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত কাজের অস্বাভাবিক চাপ, কড়া ডেডলাইন (Deadline) আর সাসপেন্ড (Suspend) হওয়ার ভয়ই তাঁদের মৃত্যুর কারণ।
রাইসেন জেলার বাসিন্দা রমাকান্ত পান্ডে, যিনি মন্দিদীপ এলাকায় BLO হিসেবে কাজ করতেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন বলে দাবি পরিবারের। স্ত্রী রেখা পান্ডের কথায়—ডেডলাইন ঘনিয়ে আসায় তিনি টানা চার রাত ঘুমোননি। প্রতি রাতে দফায় দফায় ফোন আসত এসআইআরের কাজ নিয়ে। আশঙ্কা ছিল—নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করতে পারলে তাঁকে সাসপেন্ড করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার একটি অনলাইন মিটিং চলাকালীন আচমকাই সংজ্ঞা হারান রমাকান্ত। পরে তিনি আর সচেতন হননি।
এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর মৃত্যু হয় দামোহ জেলার সীতারাম গোঁন্দের (৫০)। জেলাশাসকের দপ্তর দাবি করেছে—অসুস্থতার কারণেই মৃত্যু। তবে পরিবার ও সহকর্মীদের বক্তব্য—এটিও মূলত কাজের অতিরিক্ত চাপের মর্মান্তিক ফল। জানা যায়, রঞ্জরা ও কুড়া কুড়ান গ্রামে এসআইআরের দায়িত্বে থাকা সীতারামকে ১৩০০ ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করে আপলোড করতে হত। কিন্তু কাজের অগ্রগতি ছিল খুবই কম, যা তাঁকে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ফেলে দেয়। বৃহস্পতিবার কাজ করতে করতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি; পরে জব্বলপুর হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এর আগে ভুবন সিং চৌহান নামে আরেক BLO–র মৃত্যু হয়েছিল, যাঁকে মাত্র কয়েকদিন আগে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পরিবারের দাবি—এসআইআরের চাপই তাঁর মৃত্যুর মূলে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গেও (West Bengal) এসআইআর নিয়ে আতঙ্কে বেশ কয়েকটি আত্মহননের ঘটনা সামনে এসেছে। রাজ্যে সম্প্রতি তিন BLO–র মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি লিখেছেন নির্বাচন কমিশনকে।


