ভাইরাল খবর
২ নভেম্বর থেকে রাজ্যে ভোটার তালিকা যাচাই অভিযান, কড়া নজরে নির্বাচন কমিশন
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্যে শুরু হয়ে গেল নতুন অধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তরফে বার্তা স্পষ্ট—আগামী ২ নভেম্বর থেকেই রাজ্যে শুরু হতে চলেছে বিশেষ তালিকা পর্যালোচনা (Special Intensive Revision – SIR)। বৃহস্পতিবার কোলাঘাটে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে এই ইঙ্গিত দেয় কমিশন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম জেলার বুথ লেভেল অফিসার (BLO), ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO) সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, কমিশনের নির্দেশ—শুধু কাগজে নয়, চাই মাঠে নেমে বাস্তব প্রস্তুতি। ভোটার তালিকা সংশোধনে যেন কোনও ফাঁক না থাকে।
কমিশনের এক কর্তা বলেন,
“ভোটার তালিকা নির্ভুল করতেই SIR। সমস্ত অফিসারদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। কোনও অনিয়ম হলে তার দায় এড়ানো যাবে না।”
সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, প্রতিটি জেলার BLO দের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। দ্রুত জেলার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন,
“কমিশনের তরফে স্পষ্ট বার্তা এসেছে, সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
এই মুহূর্তে রাজ্যে প্রায় ৭.৬৫ কোটি ভোটার। তাঁদের জন্য ছাপাতে হবে অন্তত ১৫ কোটি আবেদনপত্র। প্রতিটি ভোটারের জন্য দুটি করে ফর্ম—একটি ভোটারের কাছে থাকবে, অপরটি সংগ্রহ করবেন BLO রা।
প্রস্তুতি নিয়ে কড়া নজর
মঙ্গলবার রাতেই দিল্লি থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছান কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ছিলেন উপ-নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী, তথ্যপ্রযুক্তি শাখার ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্না, কমিশনের সচিব এসবি যোশী এবং উপ-সচিব অভিনব আগরওয়াল।
পরদিন সকালে তাঁদের নেতৃত্বেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট দের সঙ্গে বৈঠক হয়। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। ফর্ম বিতরণ ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে যেন কোনও গাফিলতি না হয়।
নিজস্ব পরিকাঠামোতেই ছাপাতে হবে ফর্ম
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিজ্ঞপ্তি জারির ৪–৫ দিনের মধ্যেই অন্তত ৩০ শতাংশ ফর্ম ছাপাতে হবে। প্রতিটি জেলাকেই নিজের পরিকাঠামো ব্যবহার করতে হবে এই কাজে। বিহারের মতো অন্য রাজ্য থেকে ফর্ম আনানোর পথে হাঁটবে না কমিশন।
দিল্লি থেকে সফট কপি পাঠানো হলে তবেই ছাপার কাজ শুরু হবে। এরপর সেই ফর্ম বিলি করা হবে BLO দের হাতে, যাঁরা তা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেবেন।
সার্বিক বার্তা: গাফিলতিতে ছাড় নেই
কমিশনের তরফে বারবারই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে—যে কোনও অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রস্তুতির খতিয়ান নিতে জেলা পরিদর্শনে যাবেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। শুধুই রিপোর্ট নয়, চাই বাস্তবচিত্র।
