‘আই লাভ মহম্মদ’ বিতর্কে যোগী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন জম্মু-কাশ্মীর বিজেপি নেতা
Connect with us

দেশের খবর

‘আই লাভ মহম্মদ’ বিতর্কে যোগী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন জম্মু-কাশ্মীর বিজেপি নেতা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের কড়া পদক্ষেপ নিয়ে এবার ক্ষোভ উগরে দিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের বিজেপি নেতা জাহানজাইব সিরওয়াল (Jahanzaib Sirwal)। ‘আই লাভ মহম্মদ’ (I Love Mohammad) বিতর্কের আবহে তিনি যোগীর বক্তব্য ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেন। সিরওয়াল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে তাঁর কাছে বিজেপি (BJP) থেকে পদত্যাগ করা ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না। তাঁর অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ সরকার যা করছে তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষিত ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ (Sabka Saath, Sabka Vikas) নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

প্রসঙ্গত, বরেলির (Bareilly) হিংসার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, “হিন্দু উৎসব শুরু হলেই কিছু মানুষ দাঙ্গা উস্কে দিত। তবে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও শিক্ষা নেয়।”

এই ঘটনার পর থেকেই উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন একাধিক শহরে হাই অ্যালার্ট (High Alert) জারি করেছে। বিশেষত জুমার (Juma) প্রার্থনার আগে বরেলি, সাহারানপুর, মিরাট, সম্বল-সহ পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বহু এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রভিনশিয়াল আর্মড কনস্ট্যাবুলারি (PAC) ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ড্রোন (Drone) ব্যবহার করে টহল চলছে।

শান্তি বজায় রাখতে ২ অক্টোবর বিকেল ৩টা থেকে ৪ অক্টোবর বিকেল ৩টা পর্যন্ত বরেলিতে ইন্টারনেট (Internet), ব্রডব্যান্ড (Broadband) ও এসএমএস (SMS) পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়। প্রশাসনের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউবকে কাজে লাগিয়ে গুজব রটানো এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা ছিল। তাই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Advertisement
ads

উল্লেখ্য, ২৬ সেপ্টেম্বর বরেলির কোতওয়ালি থানার কাছে মসজিদের বাইরে প্রায় ২ হাজার মানুষের বিক্ষোভের সময়ই পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, চলে ইটবৃষ্টি। ওই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন মৌলানা তৌকির খান (Tauqeer Khan)। ইতিমধ্যেই ঘটনায় ৮১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, পাশাপাশি অভিযুক্তদের অনেকের সম্পত্তি বুলডোজার (Bulldozer) দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যেই ১ অক্টোবর রাতে সিবি গঞ্জ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে (Encounter) দু’জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়ে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও পুলিশ হেফাজতেই রয়েছে। তৌকির খান ও তাঁর ঘনিষ্ঠদেরও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট ১০টি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।

অশান্তি রুখতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যারা অশান্তি সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement