দেশের খবর
টেকনিক্যাল ত্রুটিতে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি, গুরুগ্রামে গ্রেপ্তার ৬
ডিজিটাল ডেস্কঃ গুরুতর এক জালিয়াতি (Fraud) কাণ্ডে ফের প্রশ্নের মুখে পড়ল ফিনটেক (Fintech) প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা। প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে গুরুগ্রাম (Gurugram) পুলিশ।
অভিযোগ, মোবিকুইক (MobiKwik) অ্যাপের একটি টেকনিক্যাল ত্রুটি (Technical Glitch) কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (Bank Account) কোটি কোটি টাকা স্থানান্তর করেছে। অ্যাপটির ত্রুটির কারণে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা সত্ত্বেও বা ভুল পাসওয়ার্ড দিলেও লেনদেনকে সফল (Successful Transaction) হিসেবে ধরা হচ্ছিল। সেই সুযোগেই সংস্থার বিশাল ক্ষতি হয়।
পুলিশ তদন্তে উঠে এসেছে প্রায় ২,৫০০ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (Bank Accounts) এই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত, যেগুলি ইতিমধ্যেই ফ্রিজ (Freeze) করা হয়েছে। প্রায় ৮ কোটি টাকা উদ্ধার করা গিয়েছে। ধৃতরা হল— রেহান, মহম্মদ সাকিল, ওয়াকার ইউনুস, ওয়াসিম আক্রম, মহম্মদ আমির এবং মহম্মদ আনসার। তাঁদের আদালতে (Court) তোলা হলে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, এই জালিয়াতির সূত্রপাত হয় ১৩ সেপ্টেম্বর, যখন মোবিকুইক কর্তৃপক্ষ গুরুগ্রাম পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। তার আগের দিন অভ্যন্তরীণ অডিটে (Internal Audit) ধরা পড়ে সন্দেহজনক লেনদেন। এরপর জানা যায়, প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত কয়েকজন ব্যবসায়ী ও অজ্ঞাত পরিচয়ের কিছু ব্যক্তি এই ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে অর্থ লুটেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আগস্ট মাসে পলিসিবাজার ইন্স্যুরেন্স ব্রোকার্স (Policybazaar Insurance Brokers Pvt. Ltd.)-এর বিরুদ্ধেও প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। সেখানে ভুয়ো পরিচয় (Fake Identity) ব্যবহার করে ১১ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ২.০৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
ফিনটেক বিশেষজ্ঞদের মতে, একের পর এক প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও প্রতারণা গ্রাহকদের আস্থা নষ্ট করছে। তাঁদের দাবি, এ ধরনের ঘটনায় ED এবং CBI-র মতো সংস্থার মাধ্যমে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন, যাতে বোঝা যায় কোনও বড় সিস্টেমিক ঝুঁকি (Systemic Risk) রয়েছে কি না।
পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায়সংহিতা (BNS)-এর ধারা ৩১৮(৪) (মূল্যবান সম্পদ প্রতারণা) এবং ধারা ৩১৪ (অসাধু সম্পত্তি দখল) অনুযায়ী মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তে আরও নাম সামনে আসতে পারে।
অন্যদিকে, এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ে (Exchange Filing) সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষতির পরিমাণ পুরোপুরি এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে আইনগত পদক্ষেপ ও আগ্রাসী সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।


