ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার আইসার (IISER Kolkata) তৃতীয় বর্ষের পিএইচডি গবেষক অনামিত্র রায় (Anamitra Roy, ২৫) সম্প্রতি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ছায়া ফেলেছে। অতিরিক্ত ওষুধ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃতু্যর সংবাদ পাওয়া যায়। আত্মহত্যার আগে অনামিত্র একটি বিস্ফোরক সুইসাইড নোট সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পরিবারের সদস্য এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, র্যাগিং এবং থিসিস নকলের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, অনামিত্র দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতায় ওষুধ সেবন করতেন। গতকাল সন্ধ্যার পর বেশি পরিমাণে ওষুধ নেয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের দাবি, রাত ১০টা নাগাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছেলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকার খবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সকালে হাসপাতাল থেকে মৃতু্যর খবর আসে।
আরও পড়ুনঃ ভারত-আমেরিকা টানাপোড়েনে নতুন মোড়: রাশিয়া থেকে তেল কেনায় আমেরিকার শুল্ক, পাল্টা পদক্ষেপ নয়াদিল্লির
অনামিত্র সুইসাইড নোটে জানান, তিনি অটিজম আক্রান্ত ছিলেন এবং শৈশব থেকেই বাবামায়ের মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার সহ্য করেছেন। স্কুল জীবনে বুলিং ও মানসিক অবসাদে ভুগে জীবনে প্রথমবার আত্মহত্যার কথা চিন্তা করেছিলেন। কলেজ জীবনেও মানসিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছেন।
বিশেষ করে অনামিত্রের সহপাঠী সৌরভ বিশ্বাস (Sourav Biswas) থেকে নানা নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। ল্যাবের সুপারভাইজার অনিন্দিতা ভদ্রের (Anindita Bhadra) কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো পদক্ষেপ হয়নি। তিনি তার সুপারভাইজারকেও নির্যাতনের জন্য দায়ী করেছেন।
শেষ সুইসাইড নোটে অনামিত্রের অনুরোধ, নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং র্যাগিং-বিরোধী আইনের আওতায় তাদের বিচার করা হোক। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, সৌরভ বিশ্বাস যেন কোনোভাবেই পিএইচডি ডিগ্রি না পায়।
এই ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে মানসিক নির্যাতন ও দাপটের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা স্বরূপ। কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।