প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ধূলিস্যাৎ, খোলা আকশের নীচে দিন কাটাচ্ছে বহু পরিবার
Connect with us

রায়গঞ্জ

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ধূলিস্যাৎ, খোলা আকশের নীচে দিন কাটাচ্ছে বহু পরিবার

Dipa Chakraborty

Published

on

নিজস্ব সংবাদদাতা , রায়গঞ্জ , ০১ অক্টোবর :  দিন কয়েক আগে নিম্নচাপের টানা বৃষ্টির জেরে ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি। ফলে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন অসহায় দুর্গত মানুষেরা। এমনই অমানবিক এবং দৈন্যদশার চিত্র দেখা গেল রায়গঞ্জ ব্লকের ১১ নম্বর বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকটি গ্রামে। বৃহস্পতিবার গ্রামে গিয়ে দেখা গেলো খোলা আকাশের নিচে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে মাত্র একটি ত্রিপল দিয়ে কোনরকমে মাথা গুঁজেছেন গ্রামের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টি পরিবার। কেন এই দূরাবস্থা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এঘটনায় বিজেপি পরিচালিত এই পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা৷

দিন কয়েক আগে উত্তরবঙ্গ জুড়ে টানা নিম্নচাপের বৃষ্টিপাত হয়। এই ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে বিপুলভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন অসহায় দরিদ্র মানুষেরা। বিশেষ করে যাদের কাঁচা ঘরবাড়ি। এই অবিরাম বর্ষণের ফলে বিভিন্ন জায়গায় কাঁচা ঘরবাড়ি ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের ১১ নম্বর বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতেও এমনই ছবি লক্ষ্য করা গেল বৃহস্পতিবার। এই পঞ্চায়েতের বিষ্ণুপুর, কানাইপুর সহ কয়েকটি গ্রামে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে টানা বর্ষণের জেরে। কার্যত ঘরের কোন অস্তিত্বই নেই। এমতাবস্থায় ৫০ থেকে ৬০ টি পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারী বৃষ্টির মধ্যেও তাদেরকে অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে হয়। নিম্নচাপের বৃষ্টি থেমে গিয়েছে তিন-চারদিন হল। তা সত্ত্বেও এই অসহায় মানুষদের জন্য একটি ত্রিপল ছাড়া আর কোনো সহায়তা জোটে নি বলে। এমনকি ত্রাণ বিলিতে উদাসীন বিজেপি পরিচালিত এই পঞ্চায়েত। অভিযোগ একবারের জন্য এলাকাতে আসেনি প্রধান।

নিজস্ব চিত্র

এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে আছে দুর্গত মানুষের মধ্যে৷ কেন তাদেরকে কোন সহায়তা করা হয়নি তা নিয়ে উটছে প্রশ্ন। দুর্গত মানুষেরা জানিয়েছেন, প্রবল বর্ষণের জেরে তাদের কাঁচা ঘর বাড়ি মাটিতে মিশে গিয়েছে। ফলে পরিবার নিয়ে প্রচণ্ড সমস্যার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। অথচ এখনও পর্যন্ত ত্রিপল ছাড়া আর কোনো সহায়তা তাদের মেলেনি। তবে এব্যাপারে গ্রামবাসীদের সমস্যার কথা স্বীকার করে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মনসুর আলী জানিয়েছেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং ব্লক প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও অসহায় মানুষগুলো কোনরকম সাহায্য পান নি। ঘরবাড়ি ভেঙে গেলে বা না থাকলে কি পরিস্থিতি তৈরি হয় তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন এই দুর্গত মানুষেরা। প্রশাসন এই অসহায় মানুষগুলোর জন্য কখন এগিয়ে আসে এখন সেটাই দেখার।

Continue Reading
Advertisement