বাংলাদেশ
হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে তলব, ৭ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) জন্য আরও বড় বিপদ আসতে চলেছে। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এবার সরাসরি আইনি পথে নামল ইউনূস (Yunus) সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal)-এ হাজিরার নির্দেশ পেলেন শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান (Asaduzzaman Khan)। আগামী ২৪ জুন মামলার শুনানি। তার আগেই আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দু’জনকেই।
এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে আদালত। জানা গিয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একই সঙ্গে আদালত অবমাননার মামলাও করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল, সেখানে সাধারণ মানুষের উপরে গুলি চালানোর নেপথ্যে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে শেখ হাসিনাকেই দায়ী করা হয়েছে। মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (IGP) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (Chowdhury Abdullah Al-Mamun)-এর নামও। মামুন ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন এবং তাঁকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মুনিরের মুখে ট্রাম্পের প্রশংসা, শান্তির নোবেল দাবি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের
এবার ট্রাইব্যুনালের স্পষ্ট নির্দেশ— শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খানকে ২৪ জুনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে। মামলায় নিয়োগ করা হয়েছে অ্যামিকাস কিউরি (Amicus Curiae) বা আদালতের সহায়ক আইনজীবী।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার শুনানিতে বাংলাদেশের পুলিশ দাবি করেছে, শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন এবং ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। পুলিশ আরও জানায়, হাসিনার বাসভবন ও আশেপাশের একাধিক সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও তাঁর খোঁজ মেলেনি।
একই ভাবে, আসাদুজ্জামান খানও বর্তমানে পলাতক। তাঁর সঠিক অবস্থান এখনও অধরা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি অজ্ঞাত এক ঠিকানায় আত্মগোপন করে রয়েছেন। প্রসিকিউশনের তরফে জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান যদি আগামী ৭ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির না হন, তাহলে তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। ইউনূস সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটা নিছক আইন নয়, বরং হাসিনাকে চূড়ান্তভাবে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সরানোর ‘পরিকল্পিত চাল’।
