রাজ্যের খবর
বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ বাগদার দম্পতি ফিরলেন রায়গঞ্জ সীমান্ত দিয়ে, স্বস্তির নিঃশ্বাস পরিবারের
অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার ফজের মণ্ডল ও তসলিমা মণ্ডলের পরিবার। মহারাষ্ট্রে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া এই পরিযায়ী দম্পতিকে সমস্ত নথিপত্র দেখানো সত্ত্বেও দেশে পুশব্যাক করে পাঠানো হয়েছিল বাংলাদেশে। সেই ঘটনায় আতঙ্কিত পরিবার প্রশাসনের শরণাপন্ন হলে রায়গঞ্জ সীমান্তে BSF এবং BGB-র ফ্ল্যাগমিটিং-এর পর অবশেষে রবিবার রাতে নিজের মাটিতে ফিরলেন দম্পতি।
দুই মাস আগে জীবিকার সন্ধানে স্ত্রীকে নিয়ে মহারাষ্ট্রে গিয়েছিলেন ফজের মণ্ডল। চলতি মাসের ১০ তারিখ নয়ানগর থানা এলাকায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে চলা অভিযানে পাকড়াও হন ফজের ও তসলিমা। বারবার বলার পরেও, এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বাগদার ঠিকানা ও বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়েও তাঁদের কথা শুনতে চায়নি পুলিশ, এমনই অভিযোগ পরিবারের।
বাগদার বাসিন্দা ফজেরের বাবা তাহাজুল মণ্ডল জানান, “থানায় পরিচয়পত্র পাঠালেও ছেলেকে ছাড়া হয়নি। পরে জানতেই পারিনি, ওরা কোথায় আছে!” হঠাৎই শনিবার সকালে বাংলাদেশের দিনাজপুর থেকে বিজিবি ফোন করে জানায়, ওই দম্পতিকে পুশব্যাক করা হয়েছে। খবর পেয়ে সক্রিয় হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন।
রবিবার, রায়গঞ্জ সীমান্তে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকের পর ফজের ও তসলিমার ভারতে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর তাঁদের ভাটল পুলিশ ফাঁড়িতে আনা হয় এবং পরবর্তীতে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ছেলে ও পুত্রবধূকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা তাহাজুল ও মা লতিফা মণ্ডল।
তাহাজুল জানান, আর কখনও ছেলেকে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে পাঠাবেন না। স্থানীয় কোনও কাজেই নিযুক্ত হবেন ফজের। একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাগদা ও রায়গঞ্জ থানার পুলিশ প্রশাসন এবং BSF-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এই ঘটনা ফের প্রশ্ন তোলে—পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় সত্তা নিয়ে পুলিশের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা মানবিক? বৈধ পরিচয় থাকা সত্ত্বেও তাঁদের এইভাবে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া কি নিছক ভুল, না আরও গভীর প্রশাসনিক উদাসীনতা?
