রাজ্যের খবর
ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট বিল ২০২৫ পাশ, বেসরকারি হাসপাতালে খরচে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ
রাজ্যের বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় স্বচ্ছতা ও রোগীর অধিকার রক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হল বহু প্রতীক্ষিত ‘ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট (সংশোধনী) বিল, ২০২৫’। এর মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার খরচ, পরিষেবা এবং প্যাকেজ পদ্ধতি নিয়ে আরও স্বচ্ছতা আনার দাবি জানানো হয়েছে।
বিলটি পেশ হওয়ার পরই একাধিক প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বিলটিতে নারী চিকিৎসক, নার্স, মহিলা রোগী এবং সুরক্ষা রক্ষীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। এছাড়া, প্যাকেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে ৯০-৯৫% রোগীর চিকিৎসা হলেও, ২-৫% গরিব রোগীর দায়িত্ব কে নেবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
শুভেন্দুর আরও দাবি, বিলটি পাশের আগে স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠিয়ে সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের মত নেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, “প্যাকেজ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সরকারি পোর্টালে প্রকাশ করা উচিত, যাতে প্রতারণার আশঙ্কা না থাকে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাজেট দেওয়ার নির্দেশও বাস্তবসম্মত নয়, কারণ রিপোর্ট পেতে সময় লাগে। ই-প্রেসক্রিপশন চালু হলে গোপনীয়তার বিষয়টি কীভাবে রক্ষা হবে তাও স্পষ্ট নয়।”
জবাবে রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “এই বিলের মূল লক্ষ্যই হল রোগীর স্বার্থ রক্ষা করা। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে বাধ্য করা হবে—কোন চিকিৎসার জন্য কত খরচ হল, তা স্পষ্টভাবে জানাতে। অতিরিক্ত দিন ভর্তি থাকলেও তার হিসেব রোগীকে জানাতে হবে। হাসপাতালে কী চিকিৎসা হবে, তার খরচের তালিকা আগেভাগেই জানাতে হবে।”
তিনি আরও জানান, হাসপাতাল নিজেরাই খরচ নির্ধারণ করবে, তবে সেটি রোগীর সামনে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে। সরকার এ বিষয়ে নির্দেশ দেবে না, তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাধ্য করবে। প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন, “এটি রোগী পরিষেবার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
এদিনের অধিবেশনে কিছু সময়ের জন্য এসি বিভ্রাটের কারণে কিছু অস্বস্তি হলেও, কার্যক্রম চলতে থাকে। অধিবেশন কক্ষে থাকা সবক’টি দরজা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আগামী দিনে বিধানসভায় আরও দুটি বিল পেশ হতে চলেছে—‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল সেল ট্যাক্স (সংশোধনী) বিল, ২০২৫’ এবং ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র স্পোর্টস বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৫’। যদিও বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, এখনও তাঁদের হাতে বিলের প্রতিলিপি পৌঁছায়নি। শাসক দলের আশ্বাস, যথা সময়ে প্রতিলিপি বিতরণ করা হবে।
