দেশের খবর
আজ থেকে জাতীয় জনগণনা শুরু, প্রথমবার সেল্ফ এনুমারেশনের সুযোগ নাগরিকদের
ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। ভারতের ১৬তম জাতীয় জনগণনা (National Census) শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। আজ, সোমবার (Monday) থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs)। রবিবার (Sunday) দিল্লিতে (Delhi) এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জনগণনা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব (Union Home Secretary), ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল (Registrar General of India) এবং জনগণনা কমিশনার (Census Commissioner of India)-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, আজই সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি (Gazette Notification) জারি করে জনগণনার কাজের সূচনা হবে। স্বাধীন ভারতের (Independent India) এটি অষ্টম এবং দেশের মোট ১৬তম জাতীয় জনগণনা। তবে এই জনগণনা বিশেষভাবে ঐতিহাসিক কারণ, এবারই প্রথম জাতি অনুসারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
আরও পড়ুনঃ উত্তর থেকে দক্ষিণ—সারা বাংলায় বর্ষার ধারা, টানা বৃষ্টির সতর্কতা জারি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছেন, দেশজুড়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় ৩৪ লক্ষ গণনাকর্মী (Enumerators) ও সুপারভাইজার এবং ১.৩ লক্ষেরও বেশি প্রশাসনিক কর্মী অংশ নেবেন। তথ্য সংগ্রহের জন্য অত্যাধুনিক ডিজিটাল মোবাইল অ্যাপ (Digital Mobile App) ব্যবহার করা হবে। এই প্রথমবার, নাগরিকদের জন্য থাকবে ‘Self Enumeration’ বা নিজস্বভাবে জনগণনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ। নির্দিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে (Online Platform) নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্য স্বেচ্ছায় আপলোড করতে পারবেন নাগরিকরা।
দুই ধাপে হবে এই জনগণনা। প্রথম ধাপ ‘হাউসলিস্টিং অপারেশন’ (House Listing Operation), যেখানে গৃহতালিকা তৈরির পাশাপাশি সম্পত্তি, বাসস্থান এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে হবে ‘জনসংখ্যা গণনা’ (Population Enumeration), যেখানে ব্যক্তির জন্ম, লিঙ্গ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং সাংস্কৃতিক পরিচিতির মতো বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Home Minister) স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই বিশাল কর্মসূচির প্রতিটি ধাপে তথ্যের গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। তথ্য সংগ্রহ থেকে সংরক্ষণ— প্রতিটি স্তরে কড়া নিরাপত্তা নীতিমালা মানা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জনগণনা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং জনমিতিক কাঠামো বোঝার ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাবে। জাতি অনুসারে তথ্য অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তকে তাঁরা ঐতিহাসিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই প্রক্রিয়া দেশের বাস্তব সামাজিক চিত্র আরও স্পষ্ট করে তুলবে এবং ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
