দেশের খবর
ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে চিনা অস্ত্র বিতর্কের মধ্যেই ভারতে আসছেন চিনা প্রতিমন্ত্রী
ডিজিটাল ডেস্কঃ চিন-ভারত সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে! এই সপ্তাহেই দু’দিনের সফরে ভারতে আসছেন চিনের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী সান ওয়েইডং (San Weidong)। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে পৌঁছবেন তিনি। তার সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা, এই সফরের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কিছুটা হলেও কমতে পারে।
পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল চিনা অস্ত্র। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনার বাতাবরণ তৈরি হলেও, দুই দেশের সম্পর্ক যাতে খারাপের দিকে না যায়, সেই চেষ্টায় আগ্রহী বেজিং।
জানা গিয়েছে, সান ওয়েইডং-এর সফরকালে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)-এর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। এছাড়াও, ভারতের বিদেশ সচিব এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।
চলতি বছরে এটি হবে ভারত-চিন দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা। এর আগে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি (Vikram Misri) বেজিং সফর করেছিলেন। সেই সময়ই দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা মেটাতে আলোচনার নতুন দিশা খুলেছিল। বিশেষ করে, কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা (Kailash Mansarovar Yatra) পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছিল। এই যাত্রা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয়দের অন্যতম দাবি ছিল।
আরও পড়ুনঃ রায়গঞ্জে ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথের স্নানযাত্রা, বড়সড় আয়োজন মন্দির কমিটির
পূর্ব লাদাখে দীর্ঘ পাঁচ বছরের সামরিক উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্কে বড় প্রভাব ফেলেছিল। তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েন কমানোর পর থেকে সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং চিনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং (Xi Jinping) ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এরপরেই দু’দেশ সীমান্ত সমস্যা মেটাতে বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা ফের শুরু করে।
চিনের বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি। মনে করা হচ্ছে, বছরের শেষে অজিত ডোভাল চিনের বিশেষ প্রতিনিধি তথা চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi)-কে ভারতে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
সূত্র বলছে, দুই দেশ আন্তঃসীমান্ত নদী বিষয়েও একাধিক সহযোগিতার পথে এগিয়েছে। এমনকি, চিন-ভারত সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালুর বিষয়েও নীতিগত সম্মতি মিলেছে। যদিও এই পরিষেবা এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি।
চিনের বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর সফর দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে কি না, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।
