ধর্ম
বকরি ঈদে পশুর রক্তে লাল রাস্তা, মুসলিম তোষণের অভিযোগে বিধানসভায় বিক্ষোভ বিজেপির
ডিজিটাল ডেস্ক: বকরি ঈদের (Bakri Eid) দিন শহরের রাস্তায় জমা জলে মিশল কুরবানির পশুর রক্ত। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের রাজ্য সরকার এবং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে উঠল মুসলিম তোষণের (Muslim Appeasement) অভিযোগ। সোমবার বাদল অধিবেশনের (Monsoon Session) প্রথম দিনেই বিধানসভার ভিতর এবং বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ল বিজেপি (BJP) এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি।
বিধানসভার গেটের সামনেই এদিন বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায় ‘হিন্দু সেবা দল’ (Hindu Seba Dal) নামে একটি সংগঠনকে। সংগঠনের সদস্যরা দাবি করেন, কলকাতার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড-সহ শহরের বেশ কিছু জায়গায় বকরি ঈদের দিন কুরবানির সময় পশুর রক্ত রাস্তায় জমা জলে মিশে যায়। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, ‘রাজ্য সরকারের মুসলিম তোষণের রাজনীতি হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করছে।’ বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘বকরি ঈদে কুরবানি হবে, আমরা তার বিরোধী নই। কিন্তু কুরবানির পর পশুর রক্ত যাতে রাস্তায় না জমে থাকে, তার জন্য তো প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এখানে সেটা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়ানো হয়েছে।’
আরও পড়ুনঃ বিধানসভা ভোটের আগে ধাক্কা তৃণমূলে, মালদার বৈষ্ণবনগরে শতাধিক কর্মী বিজেপিতে
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই ঘটনা প্রশাসনের ব্যর্থতা নয়, বরং ইচ্ছাকৃত মুসলিম তোষণের ফসল। দ্রুতই পুলিশ এসে ওই বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এদিকে বিধানসভার ভেতরেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তোলে বিজেপি। শোকপ্রস্তাবে মুর্শিদাবাদ দাঙ্গায় নিহত হরগোবিন্দ দাস (Hargobinda Das) ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসের (Chandan Das) নাম না থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপির মুখ্য সচেতক শংকর ঘোষ (Shankar Ghosh)। তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিম তোষণ করছে। তাই নিরপরাধ হিন্দুদের নাম শোকপ্রস্তাবে রাখা হয়নি।’
বিধানসভার বাইরে আম্বেদকর মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে বিজেপি বিধায়করা আলাদা শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন। শংকর ঘোষের অভিযোগ, ‘মুর্শিদাবাদে দাঙ্গায় যারা মারা গিয়েছেন, তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হল, কারণ তাঁরা হিন্দু। এভাবেই রাজ্য সরকার সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক আঁকড়ে ধরতে চায়।’
এদিনের ঘটনা ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মুসলিম তোষণ বিতর্ক, বকরি ঈদের দিন কুরবানির রক্ত, এবং শোকপ্রস্তাব ঘিরে বিধানসভা থেকে রাজপথ—সব জায়গাতেই চাপা উত্তাপ।
