ধর্ম
ইতিহাসে প্রথম: সৌদি আরবে প্রথমবার প্রকাশ্যে মদের অনুমতি, বদলের ইঙ্গিত সমাজে
ডিজিটাল ডেস্ক: ইসলাম ধর্মের কঠোর অনুশাসনে বহু দশক ধরে নিষিদ্ধ থাকার পর, প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে মদ্যপানের অনুমতি দেওয়া হল—তাও সরকারিভাবে এবং খোলাখুলিভাবে। ২০২৬ সাল থেকে দেশটির নির্দিষ্ট পর্যটনকেন্দ্রিক অঞ্চলে অমুসলিম বিদেশিদের জন্য সীমিত পরিসরে মদ পরিবেশনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রিয়াদ প্রশাসন।
সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, এই অনুমোদন কেবলমাত্র পাঁচতারকা হোটেল, বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং আলোচিত মেগা-প্রকল্প যেমন Neom, Red Sea Project ও Sindalah Island-এ কার্যকর হবে। এর আওতায় ওয়াইন, বিয়ার ও সাইডার পরিবেশিত হবে, যার অ্যালকোহলের মাত্রা ২০ শতাংশের বেশি হবে না। এছাড়া নির্দিষ্ট জায়গায় কিছু উচ্চমাত্রার স্পিরিটও সরবরাহ করা যাবে, তবে তা বাইরে নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোন দোকানে মদ বিক্রি করা যাবে না, ঘরে মদ সংরক্ষণ কিংবা এ সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থানেই প্রশিক্ষিত কর্মীদের (trained staff) মাধ্যমে এই পরিষেবা পরিচালনা করতে হবে। যেকোনো নিয়ম লঙ্ঘনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া অথবা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নাসিরউদ্দিন আহমেদের কন্যা আলিফা আহমেদকে কালীগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণা
তবে ধর্মীয় অনুশাসন থেকে সরে আসেনি সৌদি সরকার। দেশটির মুসলিম নাগরিক ও বাসিন্দাদের জন্য মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা পূর্বের মতোই বহাল থাকবে। সেই সঙ্গে মক্কা ও মদিনার মতো ইসলাম ধর্মের পবিত্র শহরগুলোতে অ্যালকোহলের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
এই সিদ্ধান্ত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (Mohammed bin Salman) এর ‘ভিশন ২০৩০ (Vision 2030)’ পরিকল্পনার অংশ, যার মূল লক্ষ্য দেশের তেলনির্ভর অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করে তুলতে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালে রিয়াদের কূটনৈতিক অঞ্চলে (Diplomatic Quarter, Riyadh) প্রথম একটি অ্যালকোহল স্টোর চালু করা হয়, যা শুধুমাত্র অমুসলিম বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য উন্মুক্ত ছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র পর্যটন নয়, সমাজ কাঠামো এবং রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শে এক যুগান্তকারী রদবদলের বার্তা দিচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের বিরোধিতায় দেশজুড়ে ধর্মীয় গোষ্ঠী ও রক্ষণশীল মহলের প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলেই ধারণা।
সৌদি সমাজের এই নাটকীয় রূপান্তর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে এক যুগসন্ধিক্ষণ তৈরি করেছে—যেখানে আধুনিকীকরণের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে রক্ষণশীল মূল্যবোধের পরীক্ষায় নামছে মরু-রাজ্য।
