হামলা
পাক হামলায় যমজ শিশু জোয়া-জাইন নিহত, পুঞ্চে প্রতিশোধের দাবিতে ফুঁসে উঠছে জনতা
ডিজিটাল ডেস্কঃ পাকিস্তানের মর্টার হানায় কেঁপে উঠল জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ (Poonch)। মঙ্গলবার গভীর রাতে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ফের সীমান্তে গোলাবর্ষণ করে পাক সেনা (Pak Army)। শুধু নিয়ন্ত্রণরেখা নয়, এবার তাদের হামলার লক্ষ্য হয়েছিল শহরের অভ্যন্তরও। গুরুদ্বার, মন্দির, মাদ্রাসা— কোনও ধর্মস্থানই রক্ষা পেল না। প্রাণ হারালেন বহু নারী, শিশু। আহত অন্তত অর্ধশতাধিক। শহর জুড়ে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ, কষ্ট আর রক্তের দাগ।
বুধবার সকালে গুরুদ্বারের পাশে দোতলা বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে দিলবাগ সিং (Dilbag Singh) বলছিলেন, “সকাল সাতটা নাগাদ ওদিক থেকে মর্টার এসে আছড়ে পড়ে। গুরুদ্বারের ছাদ ভেঙে যায়, আমাদের বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক ফুটো হয়ে যায়। আর কপাল ভাল যে তখন প্রার্থনা শেষ হয়েছিল।” গুরুদ্বারের গ্রন্থী সাবর সিং (Sabar Singh) বললেন, “২০ মিনিট আগে মর্টারটি পড়লে একসঙ্গে অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হত।” তাঁর কণ্ঠে ছিল আতঙ্ক, আশ্চর্য, আবার ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতাও।
পুঞ্চ শহরের বিভিন্ন জায়গায়— মানকোট, মেনধার, থান্ডি কাসি— ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুড়ে যাওয়া বাইক, ক্ষতবিক্ষত গাড়ি, উড়ে যাওয়া দোকানপাটের ভাঙা টুকরো। একটি পেট্রোল পাম্প কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত। রাস্তায় জমে থাকা রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। গুরুদ্বারের পাশেই এক মন্দির এবং মাদ্রাসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাদ্রাসার এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে ঘটনাস্থলে। নিহতদের মধ্যে আছেন এক মুসলিম পরিবারের দুই শিশু— ১২ বছরের যমজ জোয়া ও জাইন। তাঁদের মা আরুশা (Arusha), বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামী রামিজের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, “আমাদের কী দোষ ছিল? কোথায় যাব আমরা?”
আরও পড়ুনঃপাকিস্তানে আর নিরাপদ নয়, ক্রিকেটারদের ফিরিয়ে আনছে বাংলাদেশ
এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১৬ জন— যাঁদের মধ্যে পাঁচ শিশু, তিন মহিলা এবং শহিদ হয়েছেন ৫ ফিল্ড রেজিমেন্টের ল্যান্সনায়েক দীনেশ কুমার (Dinesh Kumar)।
সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র। ৫৭ বছরের গ্রন্থী সাবর সিং বলেন, “কারগিল যুদ্ধেও এমন হামলা শহরের মধ্যে হয়নি। এটা ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।” অন্যদিকে মধ্যবয়স্ক দিলবাগ সিং স্পষ্ট বললেন, “আর না! এটাই উপযুক্ত সময় পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার।”
শুধু পুঞ্চ নয়, কুপওয়ারা, উরি-সহ সীমান্তবর্তী এলাকায়ও পাক গোলাবর্ষণের ফলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাজৌরি (Rajouri)-র হোটেলে রাত কাটানো সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ। ব্ল্যাকআউট, সাইরেনের শব্দ, আকাশে উড়ে যাওয়া মিসাইল, ড্রোন ধ্বংস— রীতিমতো যুদ্ধ পরিস্থিতি। রাত দুটো নাগাদ কিছুটা শান্তি ফিরলেও আতঙ্ক থেকেই যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা পাপু সিং (Papu Singh), যিনি পরিবার নিয়ে পুঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছিলেন, বলেন, “যুদ্ধ হোক, আমরা চাই। কিন্তু আগে তো আমাদের জানানো উচিত ছিল! গরিব মানুষ কোথায় যাবে? একটা ক্যাম্পও তৈরি হয়নি।”
আপাতত প্রতিআক্রমণে ভারতও পাকিস্তানের একাধিক সেনা ছাউনি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে খবর। তবে ভবিষ্যতে কী হবে, আর কী জবাব দেবে ভারত সরকার— সেটাই এখন জাতীয় প্রশ্ন।
