খুন
শহিদ ভাইয়ের পথ অনুসরণ, পহেলগাঁওয়ে পর্যটক বাঁচালেন নাজাকাত আহমেদ শাহ
ডিজিটাল ডেস্কঃ পহেলগাঁওয়ের বিভীষিকার মধ্যে থেকে জীবন বাঁচালেন এক সাহসী যুবক। আতঙ্ক আর গুলির আওয়াজে যখন পর্যটকরা প্রাণ বাঁচাতে দিশেহারা, তখন মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে এগিয়ে এলেন স্থানীয় গাইড নাজাকাত আহমেদ শাহ। তাঁর বীরত্বে প্রাণে রক্ষা পেলেন বিজেপি-র যুব মোর্চার নেতা অরবিন্দ আগরওয়াল ও তাঁর পরিবার।
হামলার দিন, অরবিন্দ তাঁর স্ত্রী পূজা ও চার বছরের কন্যাকে নিয়ে উপত্যকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। আচমকাই শুরু হয় এলোপাথাড়ি গুলি। পর্যটকদের অনেকেই দ্রুত নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিলেও অরবিন্দের স্ত্রী ও সন্তান পিছিয়ে পড়ে। ঠিক তখনই পাশে দাঁড়ান ২৮ বছরের নাজাকাত। উপস্থিত বুদ্ধি দেখিয়ে শিশুদের বুকে জড়িয়ে মাটিতে শুয়ে পড়তে বলেন তিনি। প্রাণপণে তাদের আগলে রাখেন গুলির মধ্যে।
আরও পড়ুনঃ সন্ত্রাসের প্রতিবাদে কঠোর বার্তা সৌরভের, পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্ত ক্রিকেট বন্ধের দাবি
শুধু এখানেই শেষ নয়। নাজাকাত তাঁদের একটি কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে দেন। পরে জানতে পারেন, অরবিন্দের স্ত্রী পূজা নিখোঁজ। তখন প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মৃত্যু-মুখ পেরিয়ে পূজাকে উদ্ধার করেন তিনি। পরে নিজের গাড়িতে করে গোটা পরিবারকে নিরাপদে শ্রীনগরে পৌঁছে দেন।
নাজাকাতের সাহসিকতার জন্যই আজ প্রাণে বেঁচে গিয়েছে অরবিন্দের পরিবার। তাই কৃতজ্ঞচিত্তে নাজাকাতকে ‘দেবদূত‘ বলে সম্মান জানাচ্ছেন অরবিন্দ। জানা গিয়েছে, নাজাকাত সেই সইদ আদিল হুসেন শাহের আত্মীয়, যিনি একই জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন পর্যটকদের রক্ষা করতে গিয়ে। এক কথায়, পহেলগাঁওয়ের রক্তাক্ত ইতিহাসে নাজাকাত হয়ে থাকলেন মানবতার উজ্জ্বল মুখ।
