Uncategorized
রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা, ট্রাম্পের বার্তায় নতুন আশা
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সম্ভবত বড় টার্নিং পয়েন্ট আসতে চলেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে— এমনই ইঙ্গিত দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, যুদ্ধ থামলে দুই দেশই আবার আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যে ফিরবে এবং নিজেদের অর্থনীতি পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে।
ট্রাম্প বলেন, “শান্তি স্থাপিত হলে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। নিষেধাজ্ঞা তোলার পর বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা সমৃদ্ধ হবে, যা গোটা বিশ্বের পক্ষেই লাভজনক।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। কারণ, কয়েক দিন আগেই মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, যুদ্ধবিরতি আলোচনায় আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। তিনি স্পষ্ট জানান, “এই সংঘাত আমাদের যুদ্ধ নয়। দ্রুত সমাধান না হলে আমরা অন্য কূটনৈতিক ক্ষেত্রের দিকে মন দেব।”
আরও পড়ুনঃ প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস, মানবতার এক উজ্জ্বল প্রতীককে হারাল বিশ্ব: শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী মোদির
তার পরই আসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘোষণা— ইস্টার উপলক্ষে প্রায় ৩৬ ঘণ্টার জন্য সাময়িক অস্ত্রবিরতি। যদিও কিয়েভ জানিয়েছে, ওই সময়সীমার মধ্যেও রুশ সেনা ড্রোন হামলা চালিয়ে গিয়েছে একাধিক স্থানে।
এই অবস্থায় ট্রাম্পের মন্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। বিশেষ করে সেই প্রেক্ষিতে, যেখানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ গত মাসে রিয়াধে তিন দফায় গোপন আলোচনায় বসেন রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে মার্কো রুবিয়ো ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনার নিরিখে ক্রাইমিয়ার উপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণকে আংশিক স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে, যদি তা যুদ্ধ থামানোর রূপরেখায় সহায়ক হয়।
কূটনৈতিক শিবিরের অভিমত, চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও যদি ট্রাম্পের নেতৃত্বে একটি যুদ্ধবিরতির রূপরেখা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা তাঁর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে বড় প্রভাব ফেলবে এবং সম্ভবত ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
