বিজন সেতু থেকে মুর্শিদাবাদ: গুজবের ভয়াল ছায়া ফের বাংলায়
Connect with us

দেশ

বিজন সেতু থেকে মুর্শিদাবাদ: গুজবের ভয়াল ছায়া ফের বাংলায়

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনায় নেপথ্যে ছিল গুজব ও ভুয়ো ছবির প্রভাব। বিষয়টি তদন্ত করে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে রাজ্য পুলিশ। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদের নাম করে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো হয়েছিল এমন সব ছবি, যেগুলোর সঙ্গে ওই জেলার কোনও যোগই নেই। এমনকি কিছু ছবি ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হয়েছিল পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিতে।

এই পরিস্থিতিতে পুলিশের তরফে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ১০৯৩টি ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে সেগুলি ব্লক করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে যাতে ভুয়ো খবর ছড়ানো আটকানো যায়।

Advertisement
ads ads

পুলিশের তরফে নাগরিকদের উদ্দেশে বার বার বলা হচ্ছে, “গুজবে কান দেবেন না। দায়িত্বশীল হয়ে ব্যবহার করুন সোশ্যাল মিডিয়া।” তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই ডিজিটাল গুজবের স্রোত কতটা রোখা সম্ভব?

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের গুজব কোনও নতুন ঘটনা নয়। ইতিহাসে নজর রাখলে দেখা যায়, ১৯৮২ সালের ৩০ এপ্রিল কলকাতার বিজন সেতুতে আনন্দমার্গীদের গণহত্যার ঘটনাও এক ছেলেধরা গুজব থেকেই জন্ম নিয়েছিল। প্রকাশ্য দিবালোকে সেদিন ১৭ জন সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ বাংলা নববর্ষেই ইডির বড়সড় সাফল্য, সীমান্ত থেকে ধরা পড়ল পাসপোর্ট জালিয়াতির পান্ডা

সাম্প্রতিক মুর্শিদাবাদ হিংসার ক্ষেত্রেও ইন্ডিয়া টুডে-র একটি তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিক্ষোভ চলাকালীন একজন প্রতিবাদকারী আচমকাই পড়ে যান। সেই ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা করে বলা হয়, তিনি পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে গুজব। এর পরেই প্রতিবাদকারীরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করে। একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, দোকানপাটে চলে ভাঙচুর।

Advertisement
ads ads

অচিরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সুতি, ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ-সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। অশান্তি রুখতে পুলিশ যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরে এলাকাজুড়ে টহল শুরু করলে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সাধারণ মানুষ।

তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনাগুলির নেপথ্যে বাইরে থেকে উসকানি ছিল। বেশ কিছু পোস্ট ভিন্‌ রাজ্য বা দেশের বাইরেও তৈরি হয়েছিল বলে সন্দেহ। এমনকি অনুপ্রবেশকারীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখন পুলিশের নজরে রয়েছে সেই সমস্ত এজেন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, যাঁরা এমন ভুয়ো ছবি ও খবর প্রচারে যুক্ত। কড়া আইনানুগ ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে প্রশাসন।

Advertisement
ads ads
Continue Reading
Advertisement ads