দেশের খবর
“লড়ছি চাকরির জন্য, দালালি করছি না”—শুভেন্দুর মন্তব্যে চাকরিহারার জবাব তীব্র
ডিজিটাল ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জেরে চাকরি হারিয়েছেন রাজ্যের ২৫,৭৩৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। আদালতের নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন চাকরিহারারা। রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি এবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভের পথে হেঁটেছেন তাঁরা। সোমবার ধর্মতলা থেকে বাসে চেপে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ।
তবে এই দিল্লিযাত্রাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ভাষায়, “তৃণমূলের দালালেরা যাচ্ছেন।” এমনকি আন্দোলনকারীদের মধ্যে থাকা মেহবুব মণ্ডলের নাম উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “মেহবুব তো মমতার বন্দনা করছিলেন। এসব নাটকবাজি নতুন কিছু নয়।” দিল্লি পুলিশের ‘লাঠির দৈর্ঘ্য’ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি—“ওদের জন্য আট ফুট লাঠি রয়েছে।”
২০১৬ সালের এসএসসি মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তে নামে সিবিআই। সেই তদন্তের ভিত্তিতে প্রায় ২৬ হাজার নিয়োগ বাতিল হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টেও সেই সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। চাকরি হারানোদের দাবি, তাঁরা অনেকেই যোগ্য প্রার্থী ছিলেন। অথচ, প্রশাসনিক গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণে তাঁদেরও ভুক্তভোগী হতে হয়েছে। তাই তাঁরা এখন চাইছেন, যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের পৃথক তালিকা প্রকাশ করে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হোক।
আরও পড়ুনঃসুবিচার চেয়ে ধর্মতলা থেকে বাসে করে দিল্লি রওনা ৬০ ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের
বিরোধী দলনেতার তোপের জবাব দিয়েছেন আন্দোলনকারীরাও। মেহবুব মণ্ডল নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “শুভেন্দুবাবু, চাকরি বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছি, কারও দালালি করতে আসিনি।” তিনি আরও লেখেন, “আপনি যদি আপনার পুরনো দিনের চরিত্রের সঙ্গে আমার মিল খুঁজে পান, সেটা আপনার দৃষ্টিভ্রম।” পাশাপাশি শুভেন্দুকে উদ্দেশ করে বলেন, “পারলে পাশে দাঁড়ান।”
বিষয়টির সমাধান যে মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই, সেই দাবি তুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “যোগ্যদের তালিকা সুপ্রিম কোর্টে জমা দিন। আদালত নিশ্চয় বিচার করবে।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করছে না। কারণ, তাতে দুর্নীতির প্রমাণ সামনে চলে আসবে।
চাকরি হারানো প্রায় ২৬ হাজার পরিবার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দিল্লির যন্তর-মন্তরে তাঁদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে আদালতের রায়, অন্যদিকে মানুষের জীবিকা—এই টানাপড়েনের মধ্যে দাঁড়িয়ে সমাধানের পথ কোথায়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
